এর আগে গতকাল (সোমবার, ১১ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে দানবাক্সে পাওয়া স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওজন নির্ধারণ এবং গণনার কার্যক্রম শুরু হয়। দিনভর চলে এসব মূল্যবান সামগ্রী যাচাই-বাছাই ও পরিমাপের কাজ।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত নয় সদস্যের উপকমিটির তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে জেলা প্রশাসনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার, ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্বর্ণকারেরা সহযোগিতা করেছেন। এছাড়া জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন সদস্য স্বর্ণ ও রুপার ওজন নির্ধারণ এবং পরিমাপের দায়িত্ব পালন করেছেন।
ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ দেশের অন্যতম পরিচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এখানে মানত ও দান করতে দূরদূরান্ত থেকে আসেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। প্রতি তিন মাস পরপর মসজিদের দানবাক্স খোলা হলে নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণালংকার, রুপা ও বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়। এসব অনুদান মসজিদের তহবিলে জমা হয়।
আরও পড়ুন:
এর আগে ২০২০ সালের ১১ মার্চ দানবাক্সে পাওয়া স্বর্ণ ও রুপা নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল। সেসময় স্বর্ণের পরিমাণ ছিল ৪১৫ ভরি ১ আনা এবং রুপার পরিমাণ ছিল ১৬৪ ভরি। এসব স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি করে মোট ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ১০০ টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়ন করে পাওয়া গিয়েছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫১ টাকা।
জেলা প্রশাসনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাগলা মসজিদের তহবিলে মোট ১৩১ কোটি ৪১ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা জমা রয়েছে। পাশাপাশি মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালুর পর থেকে অনলাইনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ১০৬ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে।
গণনা ও ওজন নির্ধারণের কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
বৈদেশিক মুদ্রার গণনা শেষ হলে দানবাক্সে পাওয়া সামগ্রিক সম্পদের পরিমাণ ও আর্থিক মূল্য সম্পর্কে আরও বিস্তারিত হিসাব পাওয়া যাবে।





