ফরিদপুরে এলপিজি সিলিন্ডার সরকারি দামের চেয়ে বেশি টাকায় বিক্রির অভিযোগ

এলপিজি সিলিন্ডার
এলপিজি সিলিন্ডার | ছবি: এখন টিভি
0

দফায় দফায় এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির মধ্যে ফরিদপুরে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। জেলা শহরের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও প্রত্যন্ত এলাকায়ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। এতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজারে এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও অনেক ক্ষেত্রে বিক্রেতারা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা করছেন না।

বর্তমানে ফরিদপুরের বিভিন্ন বাজারে আকার ও ব্র্যান্ডভেদে একটি এলপিজি সিলিন্ডার প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নহরকান্দা, সালথা, মধুখালী উপজেলার প্রত্যন্ত বাজারগুলোতে কোথাও কোথাও দাম আরও বেশি নেয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দামই বেড়েছে। এর মধ্যে রান্নার গ্যাসও যদি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হয়, তাহলে সাধারণ পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। সরকারি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার তদারকির দাবি জানান তারা।

এলপিজির দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপরও। কথা হয় নগরকান্দা বাজারের কয়েকজন স্থানীয়রা জানান, উপজেলা সদরে একরকম দাম, আর গ্রামের ছোট ছোট বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম আরও অনেক বেশি।

হোটেল, রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান ও চায়ের দোকানের মতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রান্নার কাজে এলপিজি ব্যবহার করায় তাদের ব্যয় বেড়েছে। এ উপজেলার ব্যবসায়ীরা জানান, গ্যাসের দাম বাড়লেও সেই তুলনায় ব্যবসার আয় বাড়েনি। ফলে বাড়তি খরচ সামাল দিতে গিয়ে লাভ কমে যাচ্ছে।

একজন হোটেল ব্যবসায়ী বলেন, ‘গ্যাসের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রান্নার খরচও বেড়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে অন্যান্য পণ্যের দামও বেশি। সব মিলিয়ে আগের মতো ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’

তবে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, বাজারে প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ সংকটের কারণে তাদেরও বাড়তি দামে সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ফলে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে দাবি তাদের।

এদিকে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ থাকলেও ফরিদপুরের বিভিন্ন বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত তদারকি দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

তাদের দাবি, বাজারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুস্মিতা সাহা বলেন, ‘এলপিজি গ্যাসের দাম নিয়ে বাজার তদারকির জন্য জেলার সব উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এফএস