মঙ্গলবার সংসদ ভবন চত্বর থেকে বিরোধী সংসদ সদস্যরা নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয় অভিমুখে এই পদযাত্রা শুরু করেন। তবে নীতি আয়োগ ও সংসদ ভবনের সামনের সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে পদযাত্রা আটকে দেয় পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ)।
পুলিশি বাধার মুখে রাহুল গান্ধী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যারিকেডের ওপর উঠে পড়েন। পরে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রসহ বিরোধী সংসদ সদস্যরা আকাশবাণী ভবনের চত্বরে প্রবেশ করে অবস্থান নেন এবং সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন।
বিক্ষোভ চলাকালে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে সাময়িকভাবে আটক করে পুলিশ, পরে অবশ্য তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এছাড়া সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষ এবং সিপিআই-এমএল নেতা রাজা রাম সিংসহ বহু বিরোধী সাংসদ ও নেতা-কর্মীকে আটক করে বাসে করে বিভিন্ন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ কর্মসূচি বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে এ আন্দোলন শুরু করেছে বিরোধীরা।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটাধিকার হরণ করছে এবং নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়ে সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে। খাড়গে বলেন, ‘আমরা জনগণের অধিকার কেড়ে নেয়ার এই অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। স্বাধীনতার পর প্রাপ্ত সার্বজনীন ভোটাধিকার এই সরকার শেষ করে দিতে চায়।’ তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সারা দেশে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে এবং নির্বাচন কমিশনের ওপর ভরসা করেই সরকার দাম্ভিক আচরণ করছে।’
নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের মাত্র ১০০ মিটার দূরত্বে আকাশবাণী ভবনে সংসদ সদস্যদের আটকে দেয়ার সমালোচনা করে কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা বলেন, ‘বিরোধী দলগুলো দেশের ৬৪ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছে এবং সরকার তাদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করার চেষ্টা করছে।’





