সরবরাহ সংকটে এক বছরে দ্বিগুণ বিদেশি ফলের দাম, তবে ভিন্ন তথ্য কাস্টমসের

ফল
ফল | ছবি: সংগৃহীত
0

এক বছরের ব্যবধানে মাল্টা ও কমলাসহ কিছু বিদেশী ফলের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে মাল্টা ও কমলার দাম ৫০০ টাকা ছাড়িয়েছে। আমদানি কম হওয়া ও উচ্চ শুল্ককে দাম বৃদ্ধির জন্য দায়ী করছেন আমদানিকারকরা। যদিও কাস্টমস হাউসের পরিসংখ্যান বলছে, মাল্টা ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়েনি কোনো ফলের দাম। এমনকি কমেনি আমদানিও।

পুষ্টির চাহিদা পূরণে সারা বছরেই কম-বেশি ফলের চাহিদা থাকে। জ্বর বা ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়লেও রমজানে চাহিদা হয় দ্বিগুণ। যদিও দামের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্তের কাছে ফল এখন বিলাসী দ্রব্য। এক বছরের ব্যবধানে মাল্টা, কমলা, আঙ্গুর ও ডালিমসহ আমদানি করা বিদেশী ফলের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

এতে রোগী, দেখতে বা স্বজনের বাড়ি গেলে ফল কিনে নেয়ার রেওয়াজেও ভাটা পড়েছে। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে মাল্টা ও কমলার দাম ৫০০ টাকা ছাড়িয়েছে। অথচ এক মাস আগেও কমলা ও মাল্টা বিক্রি হয়েছে আড়াইশো থেকে তিনশো টাকায়।

ক্রেতারা জানান, দাম বাড়ার কারণে হাতের নাগালের বাহিরে। লাগাম হীন দামে ফল বিক্রি কমে যাওয়ায় বিপাকে ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন

যদিও কাস্টম হাউসের ফল আমদানির তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায় আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বাড়েনি। শুধু মাল্টার দাম কেজিতে এক টাকা বেড়ে ৮৭ টাকা হয়েছে। আর আঙ্গুরের দাম কেজিতে ২ টাকা কমে ১০৫ টাকা হয়েছে। আপেল ও কমলার আমদানি মূল্য একই আছে। গত বছর প্রতি কেজি আপেলের আমদানি মূল্য ছিলো ৮৭ ও কমলার দাম ছিলো ৮৯ টাকা। তবে এসব ফল আমদানিতে সব মিলিয়ে প্রায় ১২২ শতাংশ শুল্ক কর দিতে হয়।

আমদানি মূল্য না বাড়লেও কেন দাম চড়া? ফল আমদাানিকারক ও বিক্রেতারা বলছেন, মূলত দক্ষিণ আফ্রিকা ও চীন থেকে বেশি কমলা ও মাল্টা আসে। এসব দেশে সিজন শেষ হয়ে আসা ও এক মাস আগে এ দুটি ফলে ব্যাপক লোকসান হওয়ায় আমদানি কম হওয়ায় এ সংকট

ফল আমদানিকারক মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, ‘একদিক দিয়ে জাহাজের সংকট, দুই দিক দিয়ে ফলের সংকট। মাল্টা প্রায় শেষ পর্যায়ে। ম্যাজিক ম্যান্ডারিনটা শেষ পর্যায়ে। তবে এখন চায়নাতে যে আপেল আসতেছে, আঙুর আসতেছে সব লস। এক মাস আগেও মাল্টা বিক্রি করছি সাড়ে ৩ হাজার, ৪ হাজার টাকা, ৩০০ টাকা কেজির মতন, ২৫০ টাকা কেজির মতন। হয়তো এখন কম আসাতে দাম বাড়ছে। মাল্টাটা যখন ঢুকেই যাবে সাউথ আফ্রিকা থেকে আরও, তখন মাল্টার দাম কমে যাবে।’

সেই সঙ্গে ফলের দাম বৃদ্ধির জন্য উচ্চ শুল্ক, জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি ও বন্দরের অতিরিক্ত চার্জকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।

কাস্টম হাউসের পরসিংখ্যান অনুযায়ী ২০২৫ সালে আপেল, কমলা, মাল্টা ও আঙ্গুরসহ অন্যান্য ফল আমদানি হয়েছে ৫৩ কোটি ৮৩ লাখ কেজি। ২০২৬ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে হয়েছে ৪১ কোটি ২০ লাখ কেজি।

জেআর