মুক্তিপ্রাপ্তরা হলেন— মো. শামীম, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, আফসার উদ্দিন, ইমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার উদ্দিন রানা, আব্দুর রহিম শরীফ এবং কামরুন্নাহার মনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. জাকির হোসেন।
তিনি জানান, আদালতের খালাসের আদেশ সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর তা যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী আটজনকে পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
কারাগার সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মুক্তির খবর পেয়ে সকাল থেকেই স্বজনরা কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটকের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। দুপুরের পর একে একে তারা কারাগার থেকে বের হলে স্বজনদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন পর স্বজনদের কাছে পেয়ে মুক্তিপ্রাপ্ত কয়েকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় অপেক্ষায় থাকা পরিবারের সদস্যরা ফুলের মালা পরিয়ে ও ফুল ছিটিয়ে তাদের বরণ করে নেন।
মুক্তিপ্রাপ্ত কামরুন্নাহার মনির সঙ্গে তার সাত বছরের মেয়ে মোবাশ্বেরা খানম রাথীও কারাগার থেকে বের হয়। পরে মুক্তিপ্রাপ্তরা পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর তারা ফেনীর উদ্দেশে রওনা হন।
আরও পড়ুন:
নুসরাত হত্যা মামলা
২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রত্যাহারের চাপ দেয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরে নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। বিচার শেষে আদালত কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন সাজা দেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের রায়ে খালাস পাওয়া আটজন কাশিমপুর কারাগার থেকে মঙ্গলবার মুক্তি পেলেন।





