গণপতি চক্রবর্তী ও তার স্ত্রী সন্তানদের মৃতদেহ উদ্ধারের পর থেকেই একের পর এক প্রশ্ন উঠেছে জনগণের মনে। যার প্রতিফলন সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্ট। প্রথম দিন থেকে পুলিশের বক্তব্যে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে নানা অমিল। এমনকি পুলিশকে দেয়া আসামির জবানবন্দির সাথে আদালতে দেয়া জবানবন্দির অমিলও নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, পুলিশের এই তড়িঘড়ি, প্রকৃত পরিকল্পনাকারীকে আড়াল করতে নয়তো?
আন্দোলনকারীরা বলেন, বাংলাদেশের যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি, স্ক্রিপ্ট তৈরি করবার যে সংস্কৃতি, পুলিশের বক্তব্য এবং বক্তব্যের পরের যে ঘটনাগুলো আমরা দেখি, সেটার সাথে মিল না থাকার কারণে মানুষের মধ্যে কিন্তু সন্দেহগুলো তৈরি হয়েছে। এই যে তথ্যের বিভ্রান্তিগুলো, এই বিভ্রান্তিগুলোই কিন্তু দিচ্ছে আমাদের প্রশাসনের। এই প্রশাসনের বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দেওয়ার কারণেই কিন্তু আজকে সাধারণ মানুষের মনে একটা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ফোর্ব জেলা ফোরাম ও ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি মানববন্ধন করে রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে। এসময় বক্তারা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য না থাকা এবং তাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
রংপুর মহানগরীর সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি জোবাইদুল ইসলাম বুলেট বলেন, তদন্তটা সঠিক হচ্ছে না। যে তদন্ত সঠিক না হলে একটা সময় বিচারের ফাঁক দিয়ে এই আসামিরা বের হয়ে চলে যাবে।
রংপুর জেলা কমিটি সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, মূল দোষী যারা আছে, এর পেছনে তারা হুকুমদাতা ছিল, এর পেছনে কারা পরিকল্পনাকারী ছিলো। একজন মানুষ চারজন মানুষকে এভাবে হত্যা করতে পারে না বা দুজন মানুষ মাদক খেয়ে ওভাবে হত্যা করতে পারে না।
তবে, শুধু মাদক নয়, জমিজমাসহ আরও বেশকিছু ইস্যু থাকতে পারে বলে ধারণা পুলিশের। ধর্ষণের আলামত না থাকলেও অন্য ধারণাগুলো নিয়ে তদন্ত করছে গোয়েন্দা বিভাগ।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, যে পরিমাণ নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, এটা পূর্ববর্তী পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বা পুঞ্জীভূত ক্রোধ এগুলোর বহিঃপ্রকাশ। এখন এই দুই পরিবারের মধ্যে। তারপর ওদের জবানবন্দিতে জানা গেছে বা পারিপার্শ্বিক সূত্রে জানা গেছে, লোকাল সূত্রে জানা গেছে যে ওই জমিটা তাদের পরিবারের কাছ থেকেই কিনে নেয়া। এই স্যার বাড়ি করেছিলেন। তো এইসব বিষয়ে কিছু বঞ্চনা, ক্ষোভ, হতাশা এগুলো থাকতে পারে।
সংখ্যালঘু নির্যাতন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ধর্ষণসহ বেশকিছু ধোঁয়াশা পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ।





