ভ্যাপসা গরমের মাঝে অসহনীয় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন। জেলা ও উপজেলা শহরে ব্যাপকহারে লোডশেডিং হচ্ছে। প্রত্যন্ত গ্রামের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। বিদ্যুৎ না পেয়ে বিদ্যুৎ অফিসে হামলা-ভাংচুরের ঘটনাও ঘটছে।
প্রায় ২৬ বছর আগে শম্ভুগঞ্জে ২১০ মেগাওয়াটের 'ময়মনসিংহ পাওয়ার স্টেশন' নামে অত্যাধুনিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করে রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড-আরপিসিএল। বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে এখন গ্যাস সংকটে উৎপাদন নেমে এসেছে শূন্যের কোটায়। প্রায় এক মাস ধরে চলছে অচলাবস্থা। বন্ধ হওয়ার আগে এতে উৎপাদন হতো ৩৫ থেকে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এটি পুরোদমে চালু রাখতে প্রয়োজন ৪২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। যদিও ২০০৭ সালের পর থেকেই গ্যাস সংকটে ভুগছিল কেন্দ্রটি।
ময়মনসিংহ পাওয়ার স্টেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্লান্ট ইনচার্জ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ম্যাক্সিমাম গ্যাস পাই তখন এটা ফুল সুইংয়ে চলে, যখন গ্যাসের কমতি হয়ে যায় তখন এটা উৎপাদন কমে যায়। আন্তঃমন্ত্রণালয় কিংবা পেট্রোবাংলা কিংবা তিতাস যাই হোক না কেন, যারা অ্যালোকেশন করেন, সেই ক্ষেত্রে যদি তারা এটার জন্য অ্যালোকেশন বাড়াইতে পারেন, সে ক্ষেত্রে হয়তো এটা আবার উৎপাদনে আসার সম্ভাবনা।
পাওয়ার স্টেশনের মেশিনগুলো বন্ধ থাকলেও অফিস কার্যক্রম চলছে নিজস্ব সোলার পাওয়ারে। দীর্ঘ মেয়াদে গ্যাস সংকট থাকলে যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশংকা রয়েছে। তবে গ্যাস পাওয়ার সাথে সাথেই উৎপাদন শুরু করা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তারা।
ময়মনসিংহ পাওয়ার স্টেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্লান্ট ইনচার্জ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, তা এটা যদি রানিং থাকে, সেই ক্ষেত্রে এগুলোর এফিসিয়েন্সি মোটামুটি ধরে রাখা যায়। কিন্তু লং টাইম বিশেষ করে যদি দুই বছর তিন বছর যদি একবারে গ্যাস নাই পাই, পুরোপুরি যদি বন্ধ থাকে, সেই ক্ষেত্রে এটার এফিসিয়েন্সি অনেক ডিটেরিওরেট করবে।
ময়মনসিংহ পাওয়ার স্টেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সাদ মুহা. সাবের বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্যাস সাপ্লাই পাই তিতাস থেকে, তাহলে আমরা খুব দ্রুত পূর্ণক্ষমতায় উৎপাদনে যেতে পারবো। আর পূর্ণক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আমাদের ৪২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সাপ্লাই দরকার।
ময়মনসিংহ বিভাগের চারজেলাসহ টাঙ্গাইল পর্যন্ত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ায় ময়মনসিংহ অঞ্চলে ব্যাপকহারে লোডশেডিং বেড়েছে বলে জানান পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির কর্মকর্তারা।
ময়মনসিংহ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি লিমিটেডের নির্বাহী প্রকোশলী মাসুদুল হক বলেন, RPCL-টিতে এখন জেনারেশনটা এক মাস যাবত এখন জেনারেশন নাই, জেনারেশন জিরো। তবে প্ল্যান্ট রেডি আছে, তারা ২১০ মেগাওয়াটই করতে, উৎপাদন করতে সক্ষম। এটাও পাইলে অঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা অনেকটাই মেটানো হবে, ভোল্টেজসহ বিদ্যুতের কোয়ালিটি ইম্প্রুভ হবে।
এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ময়মনসিংহ অফিসের কেউ কথা না বললেও প্রধান ফটকের সামনে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির জন্য দু:খ প্রকাশ করে প্রেস বিজ্ঞপ্তির ব্যানার টানিয়ে রেখেছে তিতাস কর্তৃপক্ষ।





