এসময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় তিনজনকে নকলা উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তারের কথা জানান তিনি।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন; নকলা উপজেলার পাঠাকাটা গ্রামের নওয়াব আলীর ছেলে মোস্তাকিন (৩০), ভূরদী গ্রামের রমজান আলীর ছেলে মো. শাহীন (৪০) এবং টালকি উত্তরপাড়া গ্রামের ছায়েদুল ইসলামের ছেলে মো. স্বপন (৪২)।
পিবিআই জানায়, গত ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর শেরপুরের নকলা উপজেলার পশ্চিম টালকী গ্রামের মৃত হাবিল উদ্দিনের ছেলে মন্নাছ (৪৩) ভাড়া নেয়া একটি ব্যাটারি চালিতরিকশা নিয়ে বাড়ী থেকে বের হয়ে যায়।
এরপর থেকে সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। এদিকে দুইদিন পর ২৫ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় নকলা মধ্য পাঠাকাটার বাঘমারি বিলে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরে নকলা থানা পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে ময়না তদন্ত করে।
আরও পড়ুন:
এ ঘটনায় একইদিন মন্নাছের স্ত্রী আসমা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে নকলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে নকলা থানা পুলিশ সন্দেহজনক ৫ জনকে গ্রেপ্তার করলেও মামলার রহস্য উদঘাটিত হয়নি। পরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় পিবিআইকে। এরপর পিবিআই গত ১৩ আগস্ট ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে মোস্তাকিম নামে একজনকে নকলা থেকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
এতে সে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৭ ও ১৮ আগস্ট নকলায় পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর দুই আসামী মো. শাহীন ও মো. স্বপনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানায়, অটো রিকশাচালক মন্নাছকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার পর কচুরি পানার নিচে ডুবিয়ে দেয়া হয়। পরে অটোকে ভাঙারি দোকানে ৮ হাজার ও ব্যাটারিগুলো ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
এ বিষয়ে পিবিআই শেরপুরের পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত বলেন, ‘মামলার ঘটনাটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক। ডিসিস্টের ব্যাটারি চালিত ভ্যানগাড়িটি আত্মসাৎ এর উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রিকশাচালক মন্নাছকে হত্যা করা হয়।’
হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা মন্নাছের মৃতদেহ গোপন করে এবং ভ্যানগাড়িটি বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে বিক্রি করে দেয়।





