পাবনা শহরের প্রবেশদ্বার আতাইকুলা ও অনন্ত বাজার সড়কের চিত্র এটি। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে জমেছে হাঁটু পানি, দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। পানির মধ্যেই চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন। ঝুঁকি নিয়েই যানবাহন চলাচল করায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
আতাইকুলার ব্যবসায়ী জামিল হোসেন, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় করছেন মুদি ব্যবসা। জলাবদ্ধতায় ব্যবসা কমে যাওয়ার পাশাপাশি জানালেন নানা সীমাবদ্ধতার কথা।
জামিল হোসেন বলেন, ‘দোকানে কাস্টমার আসছে, কম আসছে, বেশি আসছে, টুকটাক আসছে। কিন্তু এই আমরা সমস্যাতে পড়ে আছি, এই সমস্যাটা দেখবে কে? দেখার মতো তো কেউ নেই।’
অন্য একজন বলেন, ‘পাবনা শহরের প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাই এখন অন্তত না হলেও এই বৃষ্টির পরে নাহলেও আধা হাত পানির নিচে আছে।’
শহরের বেশিরভাগ সড়কের এমনই বেহাল দশা। অনুন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে পানি জমে থাকে দীর্ঘক্ষণ। পথচারী থেকে যানবাহন চালক, বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসী। দ্রুত সড়ক ও ড্রেনের সংস্কারে দাবি স্থানীয়দের।
আরও পড়ুন:
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘এমন ভোগান্তির মধ্যে আসি যে প্রশাসন বা কোনো নজর নেই। যদিও নজর দেয়, বলে যে খুব শিগগিরই হবে কিন্তু হয় না।’
অন্য একজন বলেন, ‘এই শহরটায় জলাবদ্ধতা অনেকদিন ধরে, কোনো সরকারই এটা পূরণ করতে পারে নাই।’
স্থায়ীভাবে বসবাসকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘রাস্তাঘাটের দুরবস্থা, পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নাই। আর ইঞ্জিনিয়ারিং যে পরিকল্পনা করে, যতটুকু কাজ করে, এ কাজ জনগণের সুবিধা কোনো কাজে আসে না।’
পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্ষার মৌসুম হওয়ায় সড়ক সংস্কারের কাজে হাত দিতে পারছেন না তারা। তবে সড়ক সংস্কারের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পাবনা সদরের পৌর প্রশাসক খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অনেক রাস্তার টেন্ডার করেছি। কিন্তু বর্ষার সিজনে আপনি জানেন যে এখন কাজ করলেই কিছুদিনের মধ্যে সেটা আবার নষ্ট হয়ে যাবে। কিছু কিছু জায়গা জরুরি যেখানে দরকার আমরা রাবিশ দিয়ে সেই কাজগুলো করছি, কিন্তু এটা পার্মানেন্ট কোনো সলিউশন না।’
পাবনা পৌরসভার তথ্য মতে, পৌর এলাকায় রাস্তা রয়েছে ২২০ কিলোমিটার। আর ড্রেন ১৫০ কিলোমিটার।




