সৈয়দপুর বিসিক শিল্প নগরীর এই গোডাউনটিতে ২০২৪ সালের ২৫ জুন অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ কীটনাশক জব্দ করে উপজেলা প্রশাসন। র্যাব, পুলিশ ও কৃষি বিভাগের উপস্থিতিতে উদ্ধার করা হয় নিষিদ্ধ ঘোষিত কার্বোফুরান উপাদানযুক্ত ব্রিফার-৫জি কীটনাশকের প্রায় ৯৯ টন মজুদ। যার বাজারমূল্য আনুমানিক দুই কোটি টাকা। এতে নিয়মিত মামলা করে কৃষি বিভাগ। গোডাউনটি সিলগালা করে আদালতের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত আলামত সংরক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয় বিসিক কর্তৃপক্ষকে।
নীলফামারী সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ বলেন, ‘২০২৪ সালের ২৫শে জুন বিসিক শিল্পনগরী সৈয়দপুরে একটি গোডাউনে নিষিদ্ধ ঘোষিত কার্বোফুরানের মজুদ পাওয়া যায়। যা প্রশাসনের সহযোগিতায় জব্দ করে বিসিক কর্মকর্তাকে জিম্মায় দিয়ে থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়। মামলাটি বিচারাধীন আছে। মামলার প্রক্রিয়া সকল প্রক্রিয়া চলমানও আছে।’
প্রায় দুই বছর পর আদালতের নির্দেশে গত ২৯ জুলাই জব্দকৃত কীটনাশক ধ্বংস করতে ঘটনাস্থলে যান জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ৩ সদস্যের দল। কিন্তু সিলগালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা যায়, ৯৩ হাজার ৫শ প্যাকেটের পরিবর্তে গোডাউনে রয়েছে মাত্র ১২৩টি প্যাকেট। পরে ধ্বংস অভিযান স্থগিত রেখে গোডাউনটি আবারও বিসিক কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয় বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন:
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম রেজা বলেন, ‘বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট যারা ছিলেন, তারা দেখলেন। তারা গুনে দেখেন যে ১২৩ পিস অনলি সেরা-ফাটা এগুলো প্যাকেট। তারপর তারা এটি ধ্বংস থেকে বিরত থাকে। বলছে যে, না এই অবস্থায় আমরা ধ্বংস করব না। আমরা এটা আমাদের কর্তৃপক্ষকে আমরা রিপোর্ট করব। তারা কিভাবে যেভাবে নির্দেশনা দেয়, সেভাবেই পরবর্তী কাজগুলো হবে। ওই অবস্থায় তারা ধ্বংস না করেই তারা চলে যায়। এখন পরবর্তী বিজ্ঞ আদালতের আদেশ যেভাবে হবে, সেভাবে আমরা কাজ করব।’
বিসিকের দায়িত্বরত কর্মকর্তা জব্দকৃত সিলগালা করা গোডাউনে মালামাল না থাকার কথা স্বীকার করলেও, মালামাল উধাও হওয়ার বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেননি। এমনকি, নিজের দায়িত্বে অবহেলার কথাও অস্বীকার করছেন ।
সৈয়দপুর, নীলফামারী বিসিক শিল্প নগরী কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ‘আমার অফিশিয়াল টাইমে বা আমি যতক্ষণ শিল্পনগরীতে ছিলাম, আমি সর্বক্ষণই এটা খোঁজখবর রেখেছি। আমার অ্যাবসেন্সে আমি যে নাইট গার্ড বা গোডাউন মালিক, ইভেন যে ট্যাগ করা পুলিশ অফিসার ছিলো তদারকির দায়িত্বে, তাকেও আমি বলেছি যে খোঁজখবর রাখার জন্য। তারা খোঁজখবর রেখেছে, আমি দেখেছি।’
আদালতের জব্দকৃত সিলগালা করা মালামাল কতটা নিরাপদ সরকারি দপ্তরে? সিলগালা না ভেঙে কিভাবে উধাও হলো আর কোথায় গেল এ নিষিদ্ধ কীটনাশক? এখন এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন সংশ্লিষ্টরা।




