ছয় বছর আগে যমুনা নদীর তীর ঘেঁষে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল এনায়েতপুরের মন্ডলপাড়া থেকে শাহজাদপুরের আহমেদপুর পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটারের বাঁধের রাস্তাটি। কিন্তু দুই বছর আগে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি উঁচু করতে রাস্তার ওপর মাটি ফেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড। মাটি ফেলার দুই বছর পার হয়ে গেলেও সড়কটি আর পাকা না করায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন দুই উপজেলার ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন এনায়েতপুর হাসপাতালে আসা রোগী, হাটের তাঁত ব্যবসায়ী এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। একাধিক স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত আর খানাখন্দের কারণে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়কটি।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় এলাকাবাসীদের একজন বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে, কাদা হয়, হাঁটতে পারি না, যাইতে পারে না মানুষ। মানুষ যে হাঁটাচলা করবে তার কোনো পরিস্থিতি নাই।’
অন্য এক ব্যক্তি বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীরা একটু বাসা থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদেরে ইউনিফর্ম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তারা স্কুলে যেতে পারছে না।’
এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, কেবল এই সড়কটিই নয়, সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ থেকে এনায়েতপুর হয়ে পাবনা পর্যন্ত তিনটি সড়কের সমন্বয়ে ১ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮৮ কিলোমিটারের একটি আধুনিক মহাসড়ক নির্মাণের মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল বলেন, ‘২৫ কিলোমিটার রোড আছে। এ ২৫ কিলোমিটার রোডকে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে। এটা এরই মধ্যেই পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের যে নির্বাচনি ইশতেহার এবং অঙ্গীকার আছে, সেটার আলোকেই এই রাস্তাটা পাঠানো হয়েছে। তারাও আন্তরিক, তারাও এটার পিছনে কাজ করতেছে। তা আমরা পাঠিয়ে দেবো, এটা দ্রুতই হয়ে যাবে আশা করা যায়।’
মেগা প্রকল্পের কাজ কবে নাগাদ শুরু হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও, আপাতত এই ২৯ কিলোমিটার সড়কটির দ্রুত সংস্কার বা পাকা করে চলাচলে স্বস্তি ফেরানো হোক এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী হাজারো মানুষের।




