আজ (বুধবার, ২৯ জুলাই) নগরের দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকার কয়েকটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, চারটি স্টেশনের মধ্যে তিনটিই বন্ধ। একটি স্টেশনে অল্প সময়ের জন্য গ্যাস সরবরাহ করা হলেও অধিকাংশ যানবাহন ৮০ থেকে ১০০ টাকার বেশি গ্যাস নিতে পারছে না। ফলে গভীর রাত থেকেই সিএনজি অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্স ও পণ্যবাহী যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে।
সেই লাইনে অপেক্ষা করছিলেন তারাকান্দা উপজেলার সিএনজি চালক আব্দুল হালিম (৫৫)। সাত বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় তার ডান পা গুরুতরভাবে আহত হয়। পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে এখন সেই পায়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসা না হলে পা কেটে ফেলতে হতে পারে। তবু সংসারের দায়ে প্রতিদিন অপারেশন করা পা নিয়েই সিএনজি চালাতে হচ্ছে তাকে।
আরও পড়ুন:
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে আব্দুল হালিম বলেন, ‘সন্ধ্যা হলেই পায়ের ব্যথা বাড়ে। প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টাকার ওষুধ লাগে। সব বিক্রি করে চিকিৎসা করেছি। ডাক্তার বলেছেন হাড়ে ইনফেকশন হয়েছে, বিদেশে চিকিৎসা করাতে হবে, না হলে পা কেটে ফেলতে হতে পারে। এত টাকা কোথায় পাব? এক সপ্তাহ ধরে গ্যাস না পেয়ে গাড়ি চালাতে পারছি না। বাড়িতে খাবার নেই। আজ গ্যাস পেলে কিছু ভাড়া মেরে বাজার করে বাড়ি ফিরব ভেবেছিলাম। কিন্তু গ্যাসই যদি না পাই, তাহলে সংসার চলবে কীভাবে?’
চালকদের অভিযোগ, গ্যাস সংকটের কারণে নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে দৈনিক আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি কিস্তি ও পারিবারিক খরচ মেটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে গ্যাসের চাপ কম থাকায় ময়মনসিংহের ভালুকা শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানায়ও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তবে কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সময়সীমা জানাতে পারেনি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কর্তৃপক্ষ। ফলে চালক, শিল্প উদ্যোক্তা ও সাধারণ ভোক্তাদের দুর্ভোগ কবে কাটবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।


 Cadre Specialist Physician Forum forms a human chain-320x167.webp)


