কুমিল্লা সীমান্ত পেরিয়ে নানা হাতবদলে দেশজুড়ে ছড়াচ্ছে মাদক, উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা

মাদক চোরাচালান
মাদক চোরাচালান | ছবি : সংগৃহীত
0

কুমিল্লায় সীমান্তের গ্রামগুলোতে মাদক এখন সহজলভ্য। মাদকাসক্তরাও বেপরোয়া। তাই ভয়ে কথা বলতে রাজি নন সাধারণ মানুষ। অভিনব পন্থায় নানা হাতবদল হয়ে মাদক পৌঁছে যায় দেশের নানাপ্রান্তে। মাদক নিয়ন্ত্রণে অসন্তোষ স্থানীয় সংসদ সদস্যের। পুলিশ বলছে, মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান দৃঢ়, তবে অভিভাবকদেরও সচেতনতা বাড়াতে হবে।

সীমান্তের খুব নিকটেই শশীদল রেলস্টেশন। অভিযোগ আছে অভিনব পন্থায় মাদক ও চোরাচালান পণ্য স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছালেই নিরাপদে সেগুলো পৌঁছে যায় দেশের নানা প্রান্তে। সম্প্রতি চোরাকারবারীদের এমন তৎপরতার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তোপের মুখে পড়েন দুইজন সংবাদকর্মী। অপরদিকে,

শশীদল-আশাবাড়ি সীমান্তে মাদক ও চোরাকারবারীদের হটস্পট। সম্প্রতি মাদকসেবীদের ধাওয়া করেন কুমিল্লা- ৫ আসনের সংসদ সদস্য।

সদর উপজেলার গোলাবাড়ি মাদকের ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য সুপরিচিত নাম। নানা উপায়ে আসা মাদক সহজলভ্য হচ্ছে এখানে। মোটরসাইকেলে করে প্রতিদিনই মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ে সীমান্তের অর্ধশতাধিক পয়েন্টে। স্কাফ, ফেন্সিডিল ও ইয়াবাসহ নানা নেশাদ্রব্য গ্রহণ করতে তাদের এই ছোটাছুটি। মাদক প্রসঙ্গে কথা বলতেও ভয় পান স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘আমারা এ বিষয়ে কথাও বলতে পার না। কেই বিক্রি করছে কেই আবার খাচ্ছে এভাবেই চলছে।’

অন্যআরেকজন বলেন, ‘সীমান্ত থেকে যে মাদক আমাদের দেশে আসছে প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে। চোরাচালান হয় এখানে। আমাদের এখানে এ বিষয় সহজলভ্য হয়ে গেছে।’

কুমিল্লায় ৪টি উপজেলার ওপর দিয়ে ১২৫কিলোমিটার ভারত সীমান্ত। মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান দৃঢ় থাকার পরও কি করে সহজলভ্য হচ্ছে মাদক, তা নিয়ে উদ্বেগ জানান স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ।

আরও পড়ুন:

কুমিল্লা-৬ সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘যদি ডিসি সাহেব বা এসপি সাহেব একটা ঘটনার উল্লেখ করে পরামর্শ দেয় গভর্মেন্টকে, দেন গো ফর দ্যাট। আপনি আমাকে এ অনুমতি দেন, আমি এই অপারেশন করব, এই সাহায্য দেন। সেদিন যদি সরকার না করে, ইন দ্যাট কেস ইট ইজ আওয়ার অবলিগেশন।’

কুমিল্লা-৫ সংসদ সদস্য মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘মাদকবিরোধী স্টার্টিং হয়েছে শশীদল রেল স্টেশন থেকে। আমি শুরু করেছি। যে কাজ করলে যে মানুষ দে উইল গেট রেজাল্ট, এটা কিন্তু আমি এখন পাচ্ছি। এবং ইনশাআল্লাহ, আমি কনফিডেন্ট এই বছরটা পর্যন্ত আমাকে সময় দেন। আমি ডিসেম্বর পর্যন্ত, হয় মাদক ব্যবসায়ীরা থাকবে, নয় আমি থাকব।’

মাদকের ভয়াবহতায় বাড়ছে নানা অপরাধ। এর সহজলভ্যতা স্বীকার করে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আসামী আটকের পর জামিনে বেরিয়ে পুনরায় জড়িত হচ্ছে মাদক ব্যবসায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবকদের আরও সচেতন হবার অনুরোধ জানান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা।

কুমিল্লা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. বজলুর রহমান বলেন, ‘মাদকের আধিক্য থাকে, কারণ চাহিদা থাকলে এটার জোগান অটোমেটিকলি আসবে। মানুষের মধ্যে যখন আমরা মাদকের যে ক্ষতিকর দিক এটা যদি সুন্দরভাবে ছড়িয়ে দিতে পারি, তাহলে কিন্তু মাদক থেকে মানুষ দূরে থাকবে।’

কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘বর্ডারের কাছে হওয়ার কারণে এত পরিমাণ মাদক ঢুকছে যে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। সহজলভ্য হওয়ার কারণে এলাকার শিশু-কিশোরসহ কিশোর, মানে যুবক, বিভিন্ন বয়সের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষরা মাদকাসক্ত হচ্ছে।’

গত ৬ মাসে কুমিল্লায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১ হাজার ১৯৩টি মামলা হয়েছে।

এফএস