অপরিকল্পিত নগরায়নে ভুগছে সিলেটবাসী; আধুনিক নগর গড়ার নতুন উদ্যোগ

সিলেটের একটি রাস্তা
সিলেটের একটি রাস্তা | ছবি : সংগৃহীত
0

দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা সিলেট। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ন, ধীরগতির সড়ক সংস্কার, দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বাড়তে থাকা নিরাপত্তা উদ্বেগে ভুগছে মহানগরীর প্রায় ১০ লাখ মানুষ। বারবার মাস্টারপ্ল্যানের ঘোষণা এলেও সমন্বয়ের অভাবে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। তবে সিটি করপোরেশনের নতুন দায়িত্ব পাওয়া প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, পরিকল্পিত ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সিলেট গড়ার কাজ শুরু হয়েছে।

মনভোলানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ভরা পর্যটন কেন্দ্রের জন্য খ্যাতি থাকলেও বর্তমানে সড়কের বেহাল দশা, যানজট, দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির ফলে সিলেট এখন আতংকের নগরীতে পরিণত হয়েছে।

২০০১ সালে ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে যাত্রা শুরু করা সিলেট সিটি করপোরেশনের সঙ্গে ২০২৩ সালে আরও ১৫টি ওয়ার্ড যুক্ত হয়। যদিও বর্ধিত এলাকার অনেক অংশ উন্নয়নবঞ্চিত। অধিকাংশ সড়ক সরু হওয়ায় যানজট, সময়ের অপচয় ও দুর্ঘটনা নিত্যদিনের সঙ্গী।

অন্যদিকে, অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলা, খাল-ছড়া দখল ও প্লাস্টিকের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।

সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয় নাগরিকরা জানান, বৃষ্টি হলেই সড়কে হাটু পানি জমে। জনগণরা চলাফেরা করতে পারে না।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে চুরি, ছিনতাই, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধ বৃদ্ধিতে নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন নগরবাসী।

নিরাপত্তা নিয়ে নিয়ে স্থানীয় নাগরিকরা জানান, জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রশাসনের স্পষ্ট ব্যর্থতা চোখে পড়ছে। নিরাপত্তায় আরও কঠোর হওয়ার দাবি তাদের।

আরও পড়ুন:

নগর বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন আধুনিক গণপরিবহন, স্মার্ট ট্রাফিক, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশবান্ধব নগরায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশ্মীর রেজা বলেন, ‘প্রশাসনকে কঠোরভাবে দেখতে হবে, যাতে মানুষের নিরাপত্তাটা আরও ভালো হয়। এবং এ নিরাপত্তার পাশাপাশি আমরা যদি যোগাযোগের কথাটা বলি যে এ যে রাস্তাঘাট অনেক সংকীর্ণ আছে, পরিকল্পিত আসলে শুরুতে ছিলো না। সেটাকে কিভাবে আরও বেটার করা যায়।’

শাবিপ্রবি সিইই বিভাগের নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহীদুর রহমান বলেন, ‘যারা অ্যাকাডেমির সঙ্গে জড়িত আছে তাদের নিয়ে যদি সার্বিকভাবে একটা কমিটি বা একটা কিছু করা যায়, হয়তো আছে সেটাকে যদি আরেকটু গতিশীল করা যায় এবং তাদের যে রিকমেন্ডেশন সেগুলো যাতে পেইজে পেইজে ইমপ্লিমেন্ট হয়, সেদিকে খুব খেয়াল রাখা দরকার।’

নিরাপত্তা, জলাবদ্ধতা, সড়ক উন্নয়ন, ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাস্টারপ্ল্যান এবং বিদেশি অর্থায়নে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, ‘এখানে যদি ১ হাজার ২০০ সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয় তাহলে পুরো শহরকে আমরা সিসিটিভি মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে পারবো। যদি আমাদের একটা প্রজেক্টের আওতায় এটি করে দেয়া যায়, এটি সবচেয়ে ভালো হয়।’

সিলেট সিটি করপোরেশন প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, ‘বিউটিফিকেশন, জলাবদ্ধতা, সুরমা নদীর খনন, দুই পাড়ে এমব্যাঙ্কমেন্ট, তারপরে ওয়াকওয়ে নির্মাণ বা সিটিকে সিটি গ্রিন করা, এই সমস্ত অনেকগুলা বিষয় নিয়ে আমরা একটা প্ল্যান সাজিয়েছি।’

দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, প্রযুক্তির ব্যবহার, আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমেই আধুনিক পর্যটন নগরী গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি

এফএস