ধামরাইয়ে ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা শুরু কাল

পুরীতে রথযাত্রা
পুরীতে রথযাত্রা | ছবি: সংগৃহীত
0

ঢাকার ধামরাইয়ে শুরু হতে যাচ্ছে এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী যশোমাধব দেবের রথযাত্রা উৎসব। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম এ ধর্মীয় উৎসব। উৎসব ঘিরে সাজ সাজ রব। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে রথযাত্রার উৎসবে মুখর হয়ে ওঠেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। সেই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল (বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই) ঢাকার ধামরাইয়ে শুরু হচ্ছে প্রায় চারশ বছরের ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী যশোমাধব দেবের রথযাত্রা উৎসব। আয়োজকদের দাবি, এটি উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম কাঠের রথযাত্রা।

উৎসবকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা এখন ধামরাইজুড়ে। ধুলো-ময়লা পরিষ্কার করে ৬০ ফুট উঁচু কাঠের রথে শেষবারের মতো রঙের তুলির আঁচড় দিচ্ছেন কারিগররা। শত প্রতিকূলতার মাঝেও ঐতিহ্যের এ রথকে নতুন রূপ দিতে কাজ করছেন তারা।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আগুনে ধ্বংস হয়ে যায় ধামরাইয়ের ঐতিহাসিক ৭৫ ফুট উঁচু মূল রথটি। স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন বাঁশ ও কাঠের অস্থায়ী রথে উৎসব চললেও, পরে নির্মিত হয় বর্তমানের ৬০ ফুট উচ্চতা ও ৩৭ ফুট প্রস্থের নান্দনিক কাঠের রথ। এবারও ৯ দিনব্যাপী ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ২৪ জুলাই উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে শেষ হবে মূল উৎসব। তবে মাসব্যাপী চলবে ঐতিহ্যবাহী রথমেলা।

আরও পড়ুন

ধামরাই যশোমাধব রথযাত্রা উদযাপন কমিটির সহ-সভাপতি বাবু নন্দ গোপাল সেন বলেন, ‘বৈরি আবহাওয়ার জন্য কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে, তারপরেও আমরা এ রথ টানার পূর্বেই আমাদের সমস্ত কাজকর্ম শেষ হবে। অন্যান্য বারের বারের মতোই আমরা সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে সমাপ্ত করতে পারবো।’

রথযাত্রাকে ঘিরে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এদিকে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, ‘এখানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক থাকে, জনগণের যেন কোনো ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন এবং বিশেষ করে জ্যামজট যে একটা হয় ওখানে, সেই বিষয়টাও আমরা ট্রাফিক পুলিশকে বলেছি, যেন নির্বিঘ্নে জনগণ এখানে আসতে পারে।’

ঢাকার ধামরাইয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, ‘নিরাপত্তা জোরদার, নির্বিঘ্নে এ অনুষ্ঠান পরিচালনা করা এবং সুশৃঙ্খলভাবে। তার জন্য যা করা দরকার আমরা এরই মধ্যে নিয়েছি এবং আমরা এই অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেষ্ট আছি।’

শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, ধামরাইয়ের রথযাত্রা এখন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ঐতিহ্য ও বাঙালি সংস্কৃতির এক অনন্য প্রতীক। নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এ ধারাবাহিকতা আরও সমৃদ্ধ হয়ে টিকে থাকবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

জেআর