বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই পরই উদ্যোগ নেয় দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও খাল খননের।
৬ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে পাবনার রত্নাই নদী ও শংকরপুর খালের ১০ কিলোমিটার পুনঃখননের উদ্যোগ নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। কাজের কার্যাদেশ পায় কুষ্টিয়ার ঠিকাদার নাসির উদ্দীন মোল্লার প্রতিষ্ঠান। তবে, মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন স্থানীয় কয়েকজন সাব-ঠিকাদার।
রত্নাই নদী পাড়ের বাসিন্দা আলিম প্রামানিক। একসময় রত্নাই নদীতে ধরেছেন মাছ। তবে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ আর দখল দূষণে নদীটি মৃতপ্রায়। তাই খননের আশায় বুক বাধলেও ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তার।
ভুক্তভোগী আলিম প্রমানিক জানান, যেভাবে কাজটি করার কথা ছিলো সেভাবে করা হচ্ছে না।
আরও পড়ুন:
শুধু তারই নয়, অভিযোগ রয়েছে মহাসড়ক এলাকায় নকশা অনুযায়ী কাজ হলেও গ্রামের ভেতরে তা মানা হচ্ছে না। প্রভাবশালী দখলদারদের অবৈধ স্থাপনা রক্ষায় সাধারণ মানুষের বসতভিটা ঘেঁষে চালানো হচ্ছে এক্সকাভেটর। এতে নদীপাড়ের শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। প্রতিবাদ করলেই হুমকি-ধামকি, এমনকি মারধরের অভিযোগও রয়েছে। দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়রা জানান, নদী মধ্যে থেকে কাটার কথা ছিলো। তবে তা করা হচ্ছে না। তাদের বাড়িঘর ভেঙে ফেরা হচ্ছে।
রত্নাই নদী পুনঃখনন প্রকল্পের সাব-ঠিকাদার কাওসার আহমেদ কনক বলেন, ‘এখানে যাদের বাড়ি ধসে যাচ্ছিলো। তাদের বাড়ি ঠেকাতে মাটি তুলে দেয়া হয়েছে। যতটুক সম্ভব আমি সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করছি।’
এদিকে, অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড। একই আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসনও।
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আলম বলেন, ‘৫০০ মিটার অংশে আইন সংক্রান্ত জটিলতা থাকার করণে সমস্যা ফেস করতে হয়। পরে আমরা জেলা প্রশাসনকে অবগত করি। পরে জেলা প্রশাসনসহ আমরা বসে সমাধান করছি ‘
পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘যারা ব্যক্তিগতভাবে মামলা করেছিলেন, তারা প্রায় ২০ফিট জায়গা সরকার ওজনগণের স্বার্থে ছেড়ে দিচ্ছেন। এখন একটি সমাধান আসছে। দুই পক্ষ রাজি হয়েছে।’
রত্নাই নদীর প্রায় ১০ কিলোমিটার খনন করার ফলে ওই এলাকার কৃষি ও জীবনমানের উন্নতি হবে। এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।




