জরাজীর্ণ বরিশালের নগর ভবন; ঝুঁকি নিয়ে চলছে কাজ

বরিশাল সিটি করপোরেশন
বরিশাল সিটি করপোরেশন | ছবি: এখন টিভি
0

বরিশাল মহানগরীর বাসিন্দাদের সেবা দেয়ার প্রধান কেন্দ্র সিটি করপোরেশনের ভবন এখন নিজেই ‘অসুস্থ’। আশির দশকে নির্মিত এ পুরাতন ভবনের ভেতরের দেয়ালে ফাটল আর ছাদ থেকে পলেস্তরা খসে পড়া এখন নিত্যদিনের ঘটনা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বরিশাল সিটির ফজলুল হক অ্যাভিনিউ রোডে ৪৬ শতাংশ জমির ওপর ৮০’র দশকে দোতলা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। উদ্বোধন করা হয় ১৯৯০ সালে এবং ২০০২ সালে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয়।

মেঝেতে খসে পড়া কংক্রিটের বড় বড় টুকরা। ভেঙে গেছে দরজার গ্লাস। বিম, কলাম ও ছাদে ফাটল। সিটি করপোরেশনের দোতলা ও তিন তলার বিভিন্ন শাখায় একই চিত্র। এর মধ্যেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করলেও দুর্ঘটনা আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।

৩৬ বছরের পুরোনো ভবন বয়সের ভারে এখন নিজেই অসুস্থ। দেয়ালের ফাটল এবং পলেস্তারা খসে পড়া জানান দিচ্ছে-বড় কোনো দুর্ঘটনার আগাম বার্তা। দ্রুত সময়ের মধ্যে সিটি করপোরেশন স্থানান্তরের দাবি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

আরও পড়ুন

যে-কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে অফিস করতে হয় বলে জানান কর্মকর্তারাও কর্মচারীরা।

প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মানুষ কাজে আসেন এই ভবনে। প্রতিনিয়তই ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে, স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে বলেও জানান প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, ‘এ অবস্থায় আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি, আর আমরা ভাবছি কোথায় নেয়া যায় কার্যালয়টি।’

জনবল ও সেবা বাড়লেও ভবনের সংস্কার হয়নি। উল্টো নকশার তোয়াক্কা না করে দোতলা ভবনকে তিন তলায় রূপান্তর করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে পাঠানো নগরীর নথুল্লাবাদে নতুন নগর ভবনের পরিকল্পনা ও নকশা পাস হলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন প্রশাসক।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, আমরা ঝুঁকির মধ্যে আছি এ বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি। প্রায় দেয়াল খসে পরছে। আমরা চেষ্টা করছি যতদ্রুত সম্ভব সরিয়ে নেয়ার জন্য কার্যালয়টি।’

বর্তমানে মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের প্রায় ৮ লাখ মানুষের সেবা দিচ্ছে বিসিসি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ভবনটি অন্যত্র স্থানান্তর করা না হলে, যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

জেআর