গত শনিবার রাতে দুর্গাপুর পৌর শহরের তেরিবাজার এলাকায় এ নৃশংস ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ওয়াহিদুল ইসলাম কেলিস ওই রাতে নিজের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একই এলাকার মজিবর মিয়ার ছেলে নূর মোহাম্মদকে এলাকায় চলাফেরা নিয়ে শাসন করেন ওয়াহিদুল। এতে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তর্কের একপর্যায়ে নূর মোহাম্মদ তার কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে ওয়াহিদুলের পেটে আঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
আহতের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। দ্রুত দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন:
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ এলাকায় ‘কিশোর গ্যাং’ সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলো। সে সবসময় সঙ্গে হাতে বানানো ধারালো ছুরি ও লাঠিসোটা নিয়ে এলাকায় মহড়া দিতো। তাকে সাবেক এক জনপ্রতিনিধির অনুসারী হিসেবেও অনেকে অভিহিত করেছেন।
ঘটনার পর রাতেই নূর মোহাম্মদ নেত্রকোণা সদরের মালনি এলাকায় তার ফুফুর বাড়িতে আত্মগোপন করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুর্গাপুর থানা পুলিশ আজ ভোরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি একটি ধান ক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ছুরিটি স্থানীয় কামারের দোকান থেকে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটককৃত নূর মোহাম্মদকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’




