১৪ বছরেও পূর্ণ হয়নি পরিকল্পিত নগরীর স্বপ্ন; বেড়েছে ভোগান্তি আর জনদুর্ভোগ

ভোগান্তি আর জনদুর্ভোগ কুমিল্লা সিটি করপোরেশন
ভোগান্তি আর জনদুর্ভোগ কুমিল্লা সিটি করপোরেশন | ছবি: এখন টিভি
0

২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে ২০১১ সালে গঠিত হয় কুমিল্লা সিটি করপোরেশন। পরিকল্পিত নগরীর স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও, সময়ের সঙ্গে বেড়েছে ভোগান্তি আর জনদুর্ভোগ। মশার উপদ্রব, যানজট, জলাবদ্ধতা আর অনুমোদনহীন ভবনের চাপে নগরজীবন এখন অস্বস্তিকর।

২০১১ সালে দুইটি পৌরসভা নিয়ে যাত্রা শুরু করে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন। ২৭টি ওয়ার্ড আর ৫৩ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এ নগরী এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। ওষুধ ছিটালেও কমছে না মশার উপদ্রব। দিন-রাত অতিষ্ঠ নগরবাসী। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে লেগেই থাকে যানজট। যত্রতত্র হকার চলাচলের পথকে করে অবরুদ্ধ।

জায়গায় জায়গায় অপরিকল্পিত উন্নয়নের ছাপ স্পষ্ট, বাড়ছে বায়ু দূষণ। ময়লার ভাগারে পরিণত ড্রেন, সামান্য বৃষ্টিতেই তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। এছাড়াও অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ নগরীর সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা—দুইই হুমকির মুখে ফেলছে। নাগরিক সব সুবিধা নিশ্চিত করে নগরীকে গড়ে তোলা হবে নান্দনিক শহর হিসেবে। প্রত্যাশা নগরবাসীর। ফুটপাত দখলসহ শহরের অব্যবস্থাপনায় যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন:

দীর্ঘদিনের জঞ্জাল সরাতে এরই মধ্যে তোড়জোড় শুরু করেছেন নতুন প্রশাসক। নগরবাসী আশা করছেন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার সমন্বয়ে ঘুরে দাঁড়াবে এ শহর। অভিজ্ঞ পরামর্শক বোর্ড গঠন করে বিদ্যমান সমস্যা দূর করে স্বস্তির নগর গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তিনি।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের কর্মীসহ স্কুল কলেজের প্রায় ২০০ জনকে দিয়ে একটা টিম তৈরি করা হয়েছে। যারা শহরের বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে। শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছে তারা। আর পর্যায়ক্রমে মশক নিধনে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

১৮৬৪ সালে কুমিল্লা পৌরসভা দেশের প্রাচীন পৌরসভা। সেই পৌরসভা সিটি করপোরেশনে রূপান্তরের পর হারাতে বসেছে তার ঐতিহ্য। সংকট কাটিয়ে পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য কুমিল্লা গড়ে উঠবে। এমনটাই আশা নগরবাসীর।

জেআর