অযত্ন-অবহেলায় দর্শনার্থী হারাচ্ছে ভোলার মোস্তফা কামাল স্মৃতি জাদুঘর

বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্মৃতি জাদুঘর
বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্মৃতি জাদুঘর | ছবি: এখন টিভি
0

অবহেলা আর নানা সংকটে ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৮ বছর পার হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি। নেই বীরশ্রেষ্ঠের উল্লেখযোগ্য স্মৃতিচিহ্ন কিংবা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক উপকরণ। ফলে দিন দিন দর্শনার্থী হারাচ্ছে জাদুঘরটি।

দেশকে ভালোবেসে শত্রুর সামনে দাঁড়িয়ে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন বাংলার বীর সন্তানেরা। তাদেরই একজন ভোলার সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল।

২০০৮ সালে দেশের সাত বীরশ্রেষ্ঠের গ্রামে নির্মাণ করা হয় গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। তারই অংশ হিসেবে ভোলার সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নে গড়ে ওঠে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর।

প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৮ বছর পার হলেও পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি এ জাদুঘর। অল্প কিছু বই থাকলেও নেই বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের উল্লেখযোগ্য কোনো স্মৃতিচিহ্ন। নেই মুক্তিযুদ্ধের ছবি, ডকুমেন্টারি বা ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনাও। অযত্ন-অবহেলা, জনবল সংকট এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দিন দিন আকর্ষণ হারাচ্ছে জাদুঘরটি। একটি বদনা ও একটি প্লেট ছাড়া নেই তেমন কোনো স্মৃতিচিহ্ন। ফলে নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস তুলে ধরার উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।

জাদুঘরে স্বাধীনতার ইতিহাসসমৃদ্ধ তেমন বই না থাকায় ক্ষোভ জানান দর্শনার্থীরা। তাদের কাছে এটি নামমাত্র জাদুঘর। দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এসে ফিরে যায় হতাশা নিয়ে।

আরও পড়ুন:

একজন দর্শনার্থী বলেন, ‘এটা শুধু নামে মাত্র জাদুঘর, এখানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত কিছুই নেই।’

যুদ্ধের সময়ের কোনো স্মৃতি, কিংবা তাকে নিয়ে লেখা কোনো বই নেই। তাছাড়া যুদ্ধের কোনো প্রামাণ্য চিত্র ও নাই বলে জানান স্থানীয়রা।

দ্রুত জাদুঘরটি আধুনিকায়ন করে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। আর জেলা পরিষদের নির্বাহী বলছেন, জাদুঘরটি দ্রুত সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হবে।

ভোলা জেলা পরিষদ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিন্টু বেপারী বলেন, ‘উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, মানুষ যেন আরও ভালোভাবে ইতিহাস জানতে পারে; বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল বিষয়ে।’

ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান বলেন, ‘তার বাড়ি ও জাদুঘরটিতে কীভাবে ট্যুরিস্ট স্পট হিসেবে তৈরি করা যায়। একই সঙ্গে মানুষ ভোলায় আসলে বেড়ানোর জায়গা ও তৈরি হবে।’

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের নামে প্রতিষ্ঠিত গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর আধুনিকায়নের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা এবং শহিদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের দাবি স্থানীয়দের।

জেআর