জামায়াত আমির বলেন, ‘চব্বিশের যুবসমাজ অতীতের পচা রাজনীতির অনুশীলন করার জন্য তারা বুক চিতিয়ে লড়াই করেনি। তারা পরিবর্তন চেয়েছে। ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশে পরিবর্তনের সূচনা হবে।’
তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ে ছেলেরা যেমন লড়াই করেছিলো, মেয়েরাও লড়াই করেছিলো। এ দেশে সাধারণ মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই। আগে তো আমার নিরাপত্তা পরে তো উন্নতি দুটোই আমাদের দরকার কোনোটিই আমাদের নেই।’
যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিপুল সংখ্যক যুবক জবলেস। তারা বেকার। তারা রাস্তায় নেমে বলেনি আমাদের বেকার ভাতা দাও। তারা সেদিন বলেছিলো উই ওয়ান্ট জাস্টিস। আমাদের ওপর সুবিচার করা হোক। কোনো মামু খালুর লাল টেলিফোনে বা রাজনৈতিক প্রভাবে আমার কপাল যেন চোরাবালিতে হারিয়ে না যায়। আমার যোগ্যতা অনুযায়ী আমার কাজ হাতে তুলে দিতে হবে। এ দাবি নিয়ে যুবকরা রাস্তায় নেমেছিলো। আমি কথা দিচ্ছি আমরা তোমাদের শিক্ষা প্রশিক্ষণ দিয়ে তোমাদের হাতকে বাংলা গড়ার কারিগরের হাতে পরিণত করবো।’
তিনি বলেন, ‘অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। কিশোরগঞ্জে এখন বোধহয় চৈত্র মাস না? মাঘ মাসেই যদি মাথা এতো গরম হয় তাহলে চৈত্র মাসে কি হবে? একটু ঠান্ডা থাকুন। ধৈর্য ধরুন। ১২ তারিখ পর্যন্ত জনতার রায়কে সম্মান করুন। সুষ্ঠু নির্বাচনে যিনি নির্বাচিত হয়ে আসুক আমরা আকে অভিনন্দন জানাতে প্রস্তুত। কিন্তু চোরাই ভোটে আর কোনো নির্বাচন হবে না।’
আরও পড়ুন:
এক্স একাউন্ট হ্যাক বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার টুইটার যেটিকে আমরা এক্স বলি সেই এক্স আইডি হ্যাক করে, অত্যন্ত নোংরা ম্যাসেজ সেখান থেকে দেয়া হয়েছে। আমাদের আইটিটির সাইবার টিম খুব দ্রুত সেটিকে রিকভারি করে ব্যবস্থা নিয়েছে। এবং পেয়েও গেছে কোন জায়গা থেকে কারা কাজ করেছে। আশ্চর্যের বিষয় একটি রাজনৈতিক সংগঠন এই সব কিছু স্পষ্ট হওয়ার পরেও তারা এখন ব্যবসা করছেন।’
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে তিনি কিশোরগঞ্জবাসীদের উদ্দেশে ঘোষণা করেন, ‘কৃষিকে শিল্পে পরিণত করা হবে, পাচারকারীদের পেটে হাত ঢুকিয়ে টাকা ফেরত আনা হবে, কোষাগারে জমা হবে। এ এলাকার হাওড়-নদী ধ্বংস করা হয়েছে, নদী দিয়ে উন্নয়নের সংস্কার শুরু হবে, পরে অন্যগুলো করা হবে।
নারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মায়েদের সমাজের সব চাইতে সম্মানিত স্থানে রাখা হবে। মায়েদের পক্ষে কথা বলায় একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে লেগেছে। মা বোনদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা দেয়া হবে, নারীদের নিরাপত্তা সবার আগে।’
প্রশাসনের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা প্রশাসনকে বলবো আপনারা নিরপেক্ষতার সঙ্গে সততা এবং সাহসিকতার সঙ্গে আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচনকে সামনে রেখে বাতি আপনাদের জন্য দোয়া করবে।’
নির্বাচন বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো দুর্বৃত্ত ভোটে কারচুপি করতে পারবে না, জুলাই যোদ্ধারা পাহাড়া দেবে। আমরা দলীয় সরকার করতে চাই না, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই, দল গোষ্ঠি, পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি আমরা করতে চাই না। ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে মানুষ বলে দিয়েছে মানুষ ইনসাফের পক্ষে। চাঁদাবাজি হবে না, চাঁদাবাজি কাউকে করতে দেবো না আমরা কাউকে প্রভু মানবো না, আধিপত্যবাদ থাকবে না।’





