কুমিল্লার ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড ঘেঁষে জেলা কারাগারের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে সামনে এসেছে কারা কর্তৃপক্ষ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের বিরোধ। দুই দপ্তরের মধ্যে বিরোধ মীমাংসার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সড়ক বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশে দিয়েছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শাহ আলম। অপরিকল্পিত নগরায়ণে শহরের অধিকাংশ সড়কই সংকীর্ণ। এ পরিস্থিতিতে সড়ক ঘেঁষে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে অযৌক্তিক বলছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কুমিল্লাকে যেহেতু ভবিষ্যতে বিভাগ করা হবে, এ জায়গাটি এরকম রাখা উচিত। আর কারাগার কর্তৃপক্ষ যদি সিটি করপোরেশনের রাস্তার ওপরে দেয়াল নির্মাণ করে তাহলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের তথ্যমতে, আলেখারচর থেকে সোয়াগাজী পর্যন্ত এ সড়কের বড় অংশ নগরীর ভেতর দিয়ে গেছে। সড়কের দুই পাশে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। যথাযথ সংরক্ষণ না হলে দখলদারিত্বে সড়কটি ভয়াবহ যানজটের এলাকায় পরিণত হবে বলে শঙ্কা নগরবাসীর।
বাসিন্দারা জানান, এভাবে যদি সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ করা হয় তাহলে এ নগরীর জন্য খুবই খারাপ হবে। আর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে কাজটি বন্ধ রাখার জন্য।
আরও পড়ুন:
কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, নিরাপত্তার স্বার্থে নিজেদের মালিকানাধীন জায়গায় দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের দাবি, তাদের না জানিয়েই এমন নগর নির্মাণ পরিকল্পনার পরিপন্থী।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন বলেন, ‘আপনারা জানেন কারাগারের এড়িয়া খুবই স্পর্শকাতর এড়িয়া। যদি দেয়ালটা না করা যায় তাহলে যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পার। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখবে জায়গাটা কাদের, তারপর তারা যেভাবে ভালো মনে করবে আমরা তাই করবো।’
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শাহ আলম বলেন, ‘নিরাপত্তার জন্য দেয়াল করবেন এটা ভালো। তবে সেটা অন্য কোনো সংস্থা বা অন্য প্রতিষ্ঠানের সেবাকে ঘাটতি করে নয়। কারা কর্তৃপক্ষ দেয়াল তৈরি করার জন্য রাস্তাটি এমন জায়গা অব্দি কেটেছেন এতে রাস্তাটি ভেঙে পরার উপক্রম হয়েছে।’
উন্নয়ন কাজ শুরুর আগে জনস্বার্থ, নগর পরিকল্পনা ও মানুষের চলাচলের বিষয়টি যেন সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। উন্নয়ন যেন ভোগান্তির কারণ না হয় সেই প্রত্যাশা নগরবাসীর।





