রাঙামাটিতে গ্যাসের সংকটে তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ গ্যাস পাম্প

গ্যাস নিতে সিএনজি অটোরিকশার দীর্ঘ লাইন
গ্যাস নিতে সিএনজি অটোরিকশার দীর্ঘ লাইন | ছবি: এখন টিভি
0

রাঙামাটিতে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকটে তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে জেলার ৫টি পাম্প। এতে গ্যাসের জন্য পাম্পের বাইরে কয়েকশ সিএনজি অটোরিকশার দীর্ঘ লাইন পড়েছে। এতে দেশের রিকশাবিহীন শহরের একমাত্র গণ-পরিবহন সিএনজি অটোরিকশার আকস্মিক সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা।

তবে পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছেন, ডিপো থেকে প্রয়োজনীয় এলপিজি গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। একইসাথে সংকট দেখিয়ে স্বাভাবিক মূল্যে মিলছে না সিলিন্ডার গ্যাসও।

রাঙামাটিতে গেল এক সপ্তাহ ধরে এলপি গ্যাসের সংকট দেখা দেয়। সর্বশেষ গেল রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুর দুইটা থেকে গ্যাস সংকটে পাম্পগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দেন পাম্প মালিকেরা। এতে শহরের ভেদভেদি, বনরূপা ও আসামবস্তি এবং শহরের বাইরে মানিকছড়ি ও ঘাগড়ায় এলপিজি ফিলিং স্টেশন কার্যত অচল হয়ে রয়েছে।

আকস্মিক এই গ্যাস সংকটে গ্যাস নির্ভর সিএনজি অটোরিকশা চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন চালকরা। এতে ব্যাহত হচ্ছে শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। চালকরা বলছেন, তিনদিন ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় তাদের আয়-রোজগারও বন্ধ হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন:

তবে গ্যাস আসার খবরে আজ (মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে শহরের ভেদভেদি এলাকায় মেসার্স মা পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এলপিজি অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশনের বাইরে সিএনজি অটোরিকশা লাইন দিতে শুরু করে। দুপুর দুইটা পর্যন্ত পাম্পের গেইট থেকে শহরের ভেদভেদি বাজার পর্যন্ত কয়েকশো সিএনজি অটোরিকশা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তবে কয়টা নাগাদ গ্যাস মিলবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি চালক ও পাম্প কর্তৃপক্ষ।

সিএনজি চালকদের একজন প্রিয় চাকমা বলেন, ‘এই পাম্পে গ্যাস আসবে শুনে লাইনে দাঁড়িয়েছি। কখন পাবো জানি না। গাড়ি রেখে কোথাও যেতেও পারছি না। হঠাৎ করে চাইলেই গাড়িতে তেল দিয়েও চালানো সম্ভব হচ্ছে না। মারাত্মক ঝামেলায় পড়ে গেলাম।’

সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রাঙামাটির কোথাও গ্যাস নাই। গাড়ি চালাতে পারছি না। ইনকাম নাই। সন্ধ্যায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করবো কীভাবে বুঝতে পারছি না। দ্রুত সরকারের ব্যবস্থা নেয় উচিৎ।’

শহরের বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘হঠাৎ করেই গ্যাস বন্ধ। তাই শহরের একমাত্র গণ-পরিবহন গ্যাস চালিত সিএনজি অটোরিকশাও বন্ধ। মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে।’

তবে পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছেন, ডিপো থেকে প্রয়োজনীয় এলপিজি গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। সরবরাহ বাড়লে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

মেসার্স মা পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এলপিজি অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক সুজন দাশ বলেন, ‘আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। এরইমধ্যে এলপিজি সরবরাহের আশ্বাস পেয়েছি। হয়ে গেলে আজ সন্ধ্যা নাগাদ আমরা গ্যাস বিক্রি শুরু করতে পারবো। তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে আশা করি।’

ইএ