গতকাল (শনিবার, ২৪ অক্টোবর ) ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি সমাবেশে ওবামা বলেন, ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট একের পর এক ভুল ও ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশেষ করে কেউ না চাইলেও তিনি একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ শুরু করেছেন।
ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার যুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি জানান, আধুনিক ইতিহাসে এমন বিশৃঙ্খলা, নির্দয় আচরণ ও অদক্ষতা আগে কখনো দেখা যায়নি। ফলে এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমেই ট্রাম্পের স্বেচ্ছাচারী নীতির লাগাম টেনে ধরার বড় সুযোগ এসেছে ভোটারদের সামনে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের তথাকথিত বিজয়ের দাবিকে সরাসরি নাকচ করেন ওবামা। তিনি বিশ্লেষণ করেন, এই যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অর্থনৈতিক প্রভাব ও চাপ সৃষ্টির সক্ষমতা আরও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রধান জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়। সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার হুমকি দিয়ে তেহরান কার্যত আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যের ওপর এক ধরনের ভেটো ক্ষমতা পেয়ে গেছে, যা পুরো বিশ্বকে অস্থির করে তুলেছে।
এরপর ওহাইও থেকে মিশিগানের ডেট্রয়েটে গিয়ে সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ ও গভর্নর প্রার্থী জসলিন বেনসনের পক্ষে প্রচারণা চালান ওবামা। সেখানে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের অভিযোগ তোলেন তিনি।
একই সঙ্গে আবদুল এল-সায়েদের মুসলিম পরিচয় ও নাম ব্যবহার করে প্রতিপক্ষ শিবিরের কট্টর প্রচারণার তীব্র নিন্দা জানান ওবামা। নিজের অতীত রাজনৈতিক জীবনের লড়াইয়ের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পরিচয় ও ধর্ম নিয়ে এমন আক্রমণ তিনি নিজেও অতীতে মোকাবিলা করেছেন। আবদুল একজন খাঁটি মিশিগানবাসী এবং তিনি সবার অধিকারের পক্ষে কাজ করছেন।
ওহাইওর গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাক্টনের বিরুদ্ধে রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীর প্রচারিত ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক নির্বাচনি বিজ্ঞাপনেরও কড়া সমালোচনা করেন সাবেক এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শৈশবে সৎবাবার যৌন নির্যাতন ও গৃহহীন হয়ে বড় হওয়ার বেদনাদায়ক অতীত নিয়ে কথা বলেছিলেন অ্যামি অ্যাক্টন। তার সেই অতীতকে রাজনৈতিকভাবে খাটো করতে বিতর্কিত বিজ্ঞাপন প্রচারকে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের চরম অবক্ষয় বলে উল্লেখ করেন ওবামা।
হোয়াইট হাউস ছাড়ার প্রায় এক দশক পরও ডেমোক্র্যাট শিবিরের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রচারক হিসেবে এখনো জনপ্রিয় ওবামা। মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের এই প্রচারণায় আগামী সপ্তাহে তিনি জর্জিয়ায় সিনেটর জন ওসফের পক্ষে সমাবেশে যোগ দেবেন। ওয়াশিংটনের ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে এই মধ্যবর্তী নির্বাচন দুই দলের জন্যই অত্যন্ত মর্যাদার লড়াই হয়ে উঠেছে।





