শনিবার মিউনিখে রক্ষণশীল খ্রিষ্টান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) বাভারিয়াভিত্তিক সহযোগী দল খ্রিষ্টান সোশ্যাল ইউনিয়নের (সিএসইউ) দলীয় সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে এই সতর্কতা দেন মের্ৎস। তিনি বলেন, জার্মানি এখন চরম প্রতিকূল ও জটিল সব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দেশের ভেতর চরমপন্থিদের উত্থান এবং বাইরে বিদেশি শক্তির ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে ইউরোপের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষা করাই এখন প্রধান বিষয়। তিনি অভিযোগ করেন, জার্মানিকে অস্থিতিশীল করতে প্রতিদিন অপচেষ্টা চালাচ্ছে রাশিয়া।
২০২২ সালে ইউক্রেনে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে বার্লিন ও মস্কোর মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক স্নায়ুযুদ্ধের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে জার্মানি বা ইউরোপের অন্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে হাইব্রিড অভিযান চালানোর অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে মস্কো।
সম্প্রতি পূর্ব জার্মানির আঞ্চলিক নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর থেকেই মের্ৎসের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোটের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ চলছে। ওই নির্বাচনে দুটি রাজ্যে উগ্র ডানপন্থি দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) জয় পায় এবং বার্লিনে শীর্ষস্থান পায় বামপন্থি দল দ্য লেফট পার্টি। এই বিপর্যয়ের পর মের্ৎসের জনপ্রিয়তা রেকর্ড সর্বনিম্নে নেমে গেছে। একই সঙ্গে জোট শরিকদের মধ্যে এবং দীর্ঘদিন একসঙ্গে রাজনীতি করা সিডিইউ ও সিএসইউর সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
সম্মেলনে সিএসইউ নেতা মারকুস সোডার ও দলটির মন্ত্রীদের কাজের প্রশংসা করেন মের্ৎস। আগামী বছর জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে সিএসইউ নেত্রী ইলসে আইগনারের নাম প্রস্তাব করা হলে সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিনিধিরা করতালি দিয়ে তা সমর্থন জানান। তবে আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপ্রধানের এই পদের জন্য নিজেদের প্রার্থী দেয়ার সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি ছেড়ে দেয়নি মের্ৎসের দল সিডিইউ।
জাতীয় জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা কট্টর ডানপন্থি দল এএফডির সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা আবারও নাকচ করে দেন চ্যান্সেলর মের্ৎস। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যারা এএফডিকে ভোট দেবে রক্ষণশীল জোটে তাদের কোনো জায়গা হবে না। একই সঙ্গে তিনি সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস (এসপিডি) ও গ্রিন পার্টিকে সতর্ক করে দিয়ে বার্লিনে লেফট পার্টির সঙ্গে জোট না করার আহ্বান জানান। মের্ৎসের অভিযোগ, লেফট পার্টি নিজেদের দলে ইহুদিবিদ্বেষ বরদাশত করছে। যদিও লেফট পার্টি কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ইহুদিবিদ্বেষের কথা অস্বীকার করেছে।
দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করতে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পেনশন, কর ও কল্যাণমূলক সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থায় দ্রুত কার্যকর সংস্কার আনা অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন চ্যান্সেলর মের্ৎস।





