মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, আরব সাগরে অবস্থানরত রণতরি জর্জ ওয়াশিংটনে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র তোলা হচ্ছে। দেশটির কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়, ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা এবং সুরক্ষিত সামরিক অবকাঠামোয় আঘাত হানতে সক্ষম বাঙ্কার বাস্টার বোমা এবং স্ট্যান্ডঅফ ল্যান্ড-অ্যাটাক মিসাইল রণতরিটিতে জড়ো করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী যে কোনো সময় ইরানে বড় ধরনের অভিযান শুরু করতে পারে। তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন দূত টম ব্যারাকও সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যে কোনো মুহূর্তেই এ ধরনের হামলা শুরু হতে পারে।
এদিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ তায়েফ ও ইয়ানবুর মতো গুরুত্বপূর্ণ তেলকেন্দ্র লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা।
সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এসব ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে ধ্বংস করে দেয়ার দাবি করেছে। এই হামলার জবাবে ইয়েমেনের রাজধানী সানার বেশ কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি সামরিক বাহিনী। হুথিদের গণমাধ্যম আল-মাসিরাহ জানিয়েছে, সানার একটি বাড়ি ও সিমেন্ট কারখানায় সৌদি হামলায় অন্তত তিনজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
সমুদ্রপথেও উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির অননুমোদিত রুট দিয়ে যাওয়ার সময় নৌ মাইনের বিস্ফোরণে দুটি বিশালাকার তেলের ট্যাংকার বিকল হয়ে পড়েছে। জাহাজ দুটিতে প্রায় ৪৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল।
বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে গেলে নাবিকরা জাহাজ দুটি পরিত্যাগ করেন। এছাড়া নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে হরমুজ প্রণালির তলদেশে থাকা অন্তত সাতটি প্রধান ইন্টারনেট ক্যাবল কেটে দেয়ার গোপন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে তেহরান। সাগরের তলদেশের ক্যাবল কাটা পড়লে উপসাগরীয় দেশগুলোতে ব্যাংকিং, সামরিক ও বেসামরিক যোগাযোগে বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলি আবদুল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপসাগরে প্রবেশের সেই স্বপ্ন কোনো দিন বাস্তবায়িত হবে না।
অন্যদিকে এমন চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই আগামী সপ্তাহে গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর এক সম্মেলনে যোগ দিতে মস্কো যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সেখানে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ভূরাজনীতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বৈঠক করবেন।
এদিকে আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যেই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু স্বীকার করেছেন, ওয়াশিংটন থেকে যে বিপুল সামরিক সহায়তা মিলছে, তা বেশি দিন অব্যাহত নাও থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক ও ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইসরাইলকে ব্লকচেইনের মতো ডিজিটাল অর্থনীতির পথে হাঁটতে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।





