‘জাস্ট ডু ইট’-এই তিন শব্দের মন্ত্রে একসময় বিশ্ব মাতিয়েছিল আমেরিকান স্পোর্টস ব্র্যান্ড নাইকি। মাইকেল জর্ডানের মতো কিংবদন্তিদের দিয়ে যে যাত্রার শুরু, দিনে দিনে তা হয়ে ওঠে অ্যাথলেটিকস ও তরুণ প্রজন্মের স্টাইলের প্রতীক। কিন্তু সেই পরাশক্তি নাইকিই এখন যেন নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে অন্ধকার সময় পার করছে।
ধসের মাত্রাটা কতটা ভয়াবহ, তা ফুটে উঠেছে এক সপ্তাহের ব্যবধানে। ফরাসি ফুটবল তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে নাইকির স্পন্সরশিপ ছেড়ে যোগ দেন প্রতিযোগী ব্র্যান্ড ‘অন’-এ। এর মাত্র তিনদিন পরই যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ ‘এস অ্যান্ড পি হান্ড্রেড’ ইনডেক্স থেকে বাদ পড়ে নাইকি। গত পাঁচ বছরে ব্র্যান্ডটি হারিয়েছে প্রায় ১৫০ বিলিয়ন পাউন্ড, যেটি তাদের বাজারমূল্যের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ।
কিন্তু হঠাৎ কেন এই পতন? বিশ্লেষকরা বলছেন, নাইকির এই পরিণতির অন্যতম বড় কারণ সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে তাদের অবস্থান। বিশ্বজুড়ে বহুল আলোচিত ‘গো ওক, গো ব্রোক’ বাক্যটি যেন এখন নাইকির ক্ষেত্রেই সত্য হয়ে উঠেছে।
অতীতে সব রাজনৈতিক মতাদর্শের গ্রাহকদের কাছে জনপ্রিয় থাকলেও, ২০১৮ সালে জাতিগত বৈষম্যের প্রতিবাদ করা অ্যাথলেটদের সমর্থন এবং বেশকিছু বিতর্কিত সামাজিক ইস্যুতে অবস্থান নেয় কোম্পানিটি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মার্কিন রক্ষণশীল গ্রাহকদের বড় একটি অংশ নাইকি বয়কট করে। একই সময়ে চীনে মার্কিন-বিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় সে দেশের বাজারেও গত দুই বছরে টানা বিক্রি কমেছে তাদের।
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি নিজস্ব মূল শক্তিতেও নজর হারিয়েছিল নাইকি। পণ্যের মান ও খেলাধুলার দিকে মনোযোগ না দিয়ে অতিরিক্ত ডিজিটাল বিক্রিতে জোর দেওয়ায় সুযোগ লুফে নেয় প্রতিপক্ষরা। হোকা কিংবা অন-এর মতো নতুন ব্র্যান্ডগুলো গুণগত মান উন্নত করার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের শেয়ার বা ইক্যুইটি দেওয়ার মতো আকর্ষণীয় মডেলে বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।
অবশ্য নতুন সিইও এলিয়ট হিলের নেতৃত্বে আবারও খেলাধুলা আর অ্যাথলেটদের কেন্দ্র করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে নাইকি। তবে রাজনৈতিক বিতর্ক আর শক্তিশালী প্রতিযোগীদের ভিড়ে হারানো রাজত্ব নাইকি আবার পুনরুদ্ধার করতে পারবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





