ফ্রান্সে বিক্ষোভে বিপাকে পর্যটকরা, বন্ধ দর্শনীয় স্থান ও পরিবহন

ফ্রান্সে বিক্ষোভে বন্ধ বেশিরভাগ দর্শনীয় স্থান
ফ্রান্সে বিক্ষোভে বন্ধ বেশিরভাগ দর্শনীয় স্থান | ছবি: এএফপি
0

চলমান বিক্ষোভে ফ্রান্সে ঘুরতে এসে বিপাকে পড়েছেন পর্যটকরা। উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে অনেকের। বিক্ষোভের মুখে দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক পর্যটন স্পটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাশ তারা। এছাড়া রাজধানী প্যারিসে পাতালরেলসহ বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন পরিবহন সেবা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটকসহ বাসিন্দারা। বিক্ষুব্ধ জনতার সহিংসতায় ধ্বংস হয়ে গেছে দেশটির প্রাচীন অনেক স্থাপনা।

ঐতিহ্যগতভাবে ফ্রান্সে যেকোনো ছাত্র আন্দোলন রাজধানী প্যারিস থেকে শুরু হয়। তবে এবার শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দানা বেধেছে অবহেলিত উপশহরগুলো থেকে। যাকে ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক হাইস্কুল আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। স্কুল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হয়ে উঠে সহিংস। বিক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে প্যারিসসহ গোটা ফ্রান্সে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, স্কুলে নানা সংকট ও সরকারি সেবার মান খারাপ হওয়ার প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড় বিক্ষোভে নামে কয়েক লাখ মানুষ। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। চলে গণহারে ধরপাকড়। বিক্ষুব্ধ জনতা যানবাহন, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। লুটপাট চলে বিভিন্ন দোকান ও রেস্তোরাঁয়।

ফরাসি বিপ্লবে বাস্তিল দুর্গ পতনের মতো এবার লিমোজ শহরের ঐতিহাসিক টাউন হলের মিনারটিও ধসে পড়লো বিক্ষুব্ধ জনতার আগুনে। দু’টি বিশ্বযুদ্ধের সাক্ষী ১৪৩ বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা স্থাপনার ভবনের ছাদের একটি অংশ ধসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভবনটির তিন ভাগের দুই অংশ।

আরও পড়ুন:

এমন অবস্থায় দেশটিতে যাওয়া পর্যটকরা পড়েছেন বিপাকে। চলমান বিক্ষোভে উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে তাদের। ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানে প্রবেশ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাশা অনেকে।

পর্যটকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘বিক্ষোভ নিয়ে স্বভাবগতভাবেই একটু চিন্তিত। হতাশ যে কিছু জায়গা বন্ধ থাকবে। সড়কে প্রচুর পুলিশ। সব দেখে একটু ভায় লাগছে।’

অন্য একজন বলেন, ‘আমরা বেশ উদ্বিগ্ন ছিলাম। এখানে আসার আগে বুঝতে পারিনি কী প্রভাব পড়বে। তবে সব উদ্বেগের বিষয় মাথায় রেখেই আমরা এসেছি।’

প্যারিস ঘুরতে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন বলেন, ‘ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনে এসেছিলাম। তবে বেশিরভাগ স্থাপনা বন্ধ থাকায় হতাশ হয়েছি।’

এদিকে বিক্ষোভ ঘিরে প্যারিসে প্রায় প্রতিটি পয়েন্টে মোতায়েন রয়েছে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে প্রায় প্রতিটি শহরে। জনসমাগম ঠেকাতে বন্ধ করে দেয়া হয় প্যারিসের প্রবেশপথগুলো। এছাড়া বন্ধ রয়েছে পাতালরেলসহ শহরের বেশিরভাগ পরিবহন সেবা।

গেল কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বিক্ষোভের সাক্ষী হলো ফ্রান্স। সরকারি ঋণের চাপে জর্জরিত ও চলমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এই বিক্ষোভ কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছে ফ্রান্সকে।

এসএস