ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাগি; অনুমোদন দিলো দেশটির পার্লামেন্ট

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাগি
ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাগি | ছবি: রয়টার্স
0

ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে মেহরদাদ আখলাগি কেতাবচিকে অনুমোদন দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট। আজ (রোববার, ১৮ অক্টোবর) পার্লামেন্টে ভোটাভুটির মাধ্যমে তার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে কয়েক মাস ধরে চলা অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্বের অবসান ঘটল এবং দেশটির সমরাস্ত্র উৎপাদন ও ক্রয় ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে এলেন প্রতিরক্ষা খাতের দীর্ঘদিনের এক অভিজ্ঞ ব্যক্তি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হন। এরপর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মাজিদ ইবন আল-রেজা। আখলাগি তার স্থলাভিষিক্ত হলেন।

ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পে কয়েক দশক ধরে কাজ করে আসছেন মেহরদাদ আখলাগি। দেশটির মহাকাশ গবেষণা ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে তিনি শীর্ষ পর্যায়ের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিরক্ষা খাতে ভূমিকার কারণে তার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

আইনপ্রণেতাদের সামনে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে আখলাগি দেশটির সামরিক-শিল্প অবকাঠামো পুনর্গঠন, আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির বিকাশ ত্বরান্বিত করা এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করেন।

পার্লামেন্টে দেয়া বক্তব্যে মেহরদাদ আখলাগি বলেন, ‘আমেরিকান শত্রু যদি আবারও কোনো ভুল হিসাব করে, তবে সাহসী ইরানি জনগণ ও ইসলামের যোদ্ধাদের প্রতিক্রিয়া হবে অপ্রত্যাশিত ও ব্যাপক।’ তিনি আরও জানান, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের হুমকি প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিয়েছে তেহরান।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা সাজিয়েছে ওয়াশিংটন। ‘মাদার অব অল বম্বস’ নামে পরিচিত এই অস্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগারে থাকা সবচেয়ে বড় অপারমাণবিক বোমা।

মার্কিন প্রশাসনের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে নবনিযুক্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অঞ্চল থেকে নিজেদের বাহিনী যেন নিরাপদে প্রত্যাহার করা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের উচিত সেদিকে নজর দেয়া। তিনি যদি একটি বোমাও ফেলেন, তবে তার কতজন সেনাকে কফিনে চড়ে এ অঞ্চল ছাড়তে হয়, তা তাকে দেখতে হবে।’

এএম