গৃহযুদ্ধ সত্ত্বেও প্রতিবেশীদের কাছে টানছেন মিয়ানমারের মিন অং হ্লাইং

মালয়েশিয়া সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং
মালয়েশিয়া সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং | ছবি: সংগৃহীত
0

দেশজুড়ে তীব্র গৃহযুদ্ধ ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বিমান হামলা অব্যাহত থাকার পরও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করছেন মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওসের পর সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফরেও তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। তবে মানবাধিকারকর্মী ও বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের এমন তৎপরতা জান্তা বাহিনীকে সহিংসতা বাড়াতে আরও বেপরোয়া করে তুলছে।

গত সপ্তাহে কুয়ালালামপুর সফর করেন মিন অং হ্লাইং। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, মিয়ানমার নিজ খরচে নিজ দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নৌবাহিনীর জাহাজে করে তাদের ফেরত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মিন অং হ্লাইং। মালয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার মিয়ানমারের নাগরিক অবস্থান করছেন, যাদের বেশিরভাগই নিপীড়িত রোহিঙ্গা মুসলিম।

এর পাশাপাশি মিয়ানমারকে পুনরায় আসিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করতে উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করায় আসিয়ানের শীর্ষ সম্মেলনগুলো থেকে জান্তাপ্রধানকে দূরে রাখা হয়েছিল। পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর মতে, পঞ্চম বছরে পড়া মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অন্তত ৩৫ লাখ মানুষ।

বিরোধীদের বাদ দিয়ে আয়োজিত নির্বাচনের পর গত এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট পদ নেন মিন অং হ্লাইং। এরপর থেকে আসিয়ানের দেশগুলো ছাড়াও তিনি ভারত, চীন, রাশিয়া ও বেলারুশ সফর করেছেন। এমনকি মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করা অপরাধ চক্র বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও তাদের সরাসরি আলোচনা শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়লেও মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই। রাখাইন, চিন, কাচিন ও সাগাইং অঞ্চলে বিদ্রোহীদের দমনে জান্তা বাহিনী নির্বিচার বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই যোগাযোগ সামরিক বাহিনীকে কোনো ধরনের জবাবদিহি ছাড়াই আগ্রাসন চালানোর সুযোগ করে দিচ্ছে। এ ছাড়া রাখাইনের বড় অংশ এখন আরাকান আর্মির দখলে থাকায় এবং রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করায় এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

—আল জাজিরার প্রতিবেদনে অবলম্বনে

এএম