ব্রাসেলসে ইউরোপীয় শীর্ষ সম্মেলন; জেলেনস্কির পাশে থাকার অঙ্গীকার ইইউর

ব্রাসেলসে ইইউ সম্মেলনে কস্তা, জেলেনস্কি ও উরসুলা ভন ডার লিয়ান
ব্রাসেলসে ইইউ সম্মেলনে কস্তা, জেলেনস্কি ও উরসুলা ভন ডার লিয়ান | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে নতুন করে আক্রমণ চালিয়েছেন, ঠিক তখনই কিয়েভের পাশে থাকার বার্তা দিতে ব্রাসেলসে সম্মেলনে বসেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ নেতারা। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে এবং কিয়েভকে দেয়া মার্কিন গোয়েন্দা সহযোগিতা ও অস্ত্র সহায়তা কমার আশঙ্কার মধ্যেই শুক্রবার ব্রাসেলসে পৌঁছান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত সপ্তাহান্তে ট্রাম্প এককভাবে জ্বালানি অবকাঠামোয় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার মুখে কিয়েভ সেই সমঝোতা থেকে সরে এসে আবারও রুশ শোধনাগারে হামলা শুরু করে।

সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সম্মেলনে যোগ দিতে এসে ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা যত দ্রুত সম্ভব এই যুদ্ধ শেষ করতে চাই। তবে রাশিয়ার দিক থেকে যুদ্ধ বন্ধ করার কোনো সদিচ্ছা আমরা দেখছি না। তাই আমাদের শীতে টিকে থাকার প্রস্তুতি নিতে হবে।’ তিনি জানান, এই শীতকালীন প্যাকেজের মধ্যে কেবল জ্বালানি নয়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অর্থায়নের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজমেক্স টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি (জেলেনস্কি) যা করছেন, তা কেবল বিশ্ববাজারে তেলের দামই বাড়াচ্ছে। আমি মনে করি এটি একটি লজ্জাজনক ঘটনা।’ একই সঙ্গে রাশিয়া থেকে তেল পরিবহনকারী তথাকথিত ছায়া নৌবহরের (শ্যাডো ফ্লিট) ওপর থেকেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার চিন্তাভাবনা চলছে বলে ওয়াশিংটন সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে, আগামী বছরের সামরিক ঘাটতি মেটাতে বিপুল তহবিলের প্রয়োজন ইউক্রেনের। দেশটির অর্থমন্ত্রী সের্গেই মারচেঙ্কো জানিয়েছেন, আগামী বছরের জন্য তাদের প্রায় ৩ হাজার ২৬০ কোটি ডলারের বাজেট ঘাটতি রয়েছে। ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ‘এটি সঠিক ভাষা নয়। এই যুদ্ধে ইউক্রেনকে রক্ষা করা ট্রাম্পের নিজের স্বার্থেরও অনুকূলে।’ বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার বলেন, ইউরোপীয় পরিবার হিসেবে ইউক্রেনের অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখতে ইইউ সদস্যরা তহবিল জোগাতে প্রস্তুত কি না, তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনার সময় এসেছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অবশ্য তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় হামলার প্রভাবকে আমলেই নিচ্ছেন না। তার দাবি, এসব হামলায় বিশেষ কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এদিকে সম্মেলনের আগের রাতেই ইইউর সমর্থনের জবাবে রাশিয়া ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন ও নেদারল্যান্ডসের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সম্পদ সাময়িকভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার সর্বশেষ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় খারকিভে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং পোল্যান্ড সীমান্তসংলগ্ন ভোলিন অঞ্চলে ৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানী কিয়েভে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বেসরকারি জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিটিইকে।

এএম