মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব

শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসব | ছবি: এখন টিভি
0

মহাষষ্ঠীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হলো শারদীয় দুর্গাপূজা। তিথি অনুযায়ী আজ (শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হবে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাস। এরপর স্থায়ী মণ্ডপগুলোর প্রতিমা উন্মোচন হবে ভক্তদের মাঝে।

ঢাকার তালে তালে এগিয়ে আসে পূজার ক্ষণ। শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখরিত চারপাশ। অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেবী দুর্গার আগমনে ভক্তদের মনে আনন্দ আর উৎসবের আবহ ছিল শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষষ্ঠীতে।

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে ষষ্ঠীর সকাল থেকেই ছিল ভক্তদের আনাগোনা। মিলতলায় সকাল ৯টায় শুরু হয় কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার আনুষ্ঠানিকতা। সরস উপাচারে চণ্ডীপাঠ ও পুষ্পাঞ্জলির মধ্য দিয়ে আরাধনা করে প্রণাম জানান ভক্তরা।

ভক্তদের মধ্যে একজন বলেন, ‘দুটি সপ্তমী তিথি পড়েছে। যার কারণে মাকে পাঁচ দিনের পরিবর্তে ছয় দিন পাবো। তো মায়ের কাছে একটু বেশি আরাধনা, বেশি প্রার্থনা করতে পারবো।’

অন্য একজন বলেন, ‘মায়ের কাছে আমরা এই পাঁচ দিন প্রার্থনা করব যে আমাদের মধ্যে মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত হোক। সমাজে মানুষের প্রতি মানুষের যে মমত্ববোধ সেই বিষয়গুলো যাতে জাগ্রত হয়।’

আরও পড়ুন:

হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে দেবী ষষ্ঠী সন্তানদের রক্ষাকারিণী হিসেবে পূজিত হন। সন্তানের মঙ্গল ও সুস্থতা কামনায় এই দেবীর আরাধনা করেন বৈদিক ধর্মাবলম্বীরা।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরহিত বলেন, ‘অতি ভাগ্যহীন লোকেরও যেন সমস্ত অমঙ্গল দূর হয়ে যায়। যেন মঙ্গলে পরিপূর্ণ হয়। যেন শান্তিতে সমস্ত পৃথিবীটা বিরাজ করতে পারে। সবার সংসারে শান্তি আসে, পূর্ণ শান্তি আসে, সবার সমস্ত অমঙ্গল দূর হয়ে যাক—এই প্রার্থনা নিয়ে আমরা আজকে পূজা দিয়েছি। আমাদের পূজায় আমরা অত্যন্ত খুশি।’

পুরাণ ও প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী প্রতিবছর শরতের এই সময়ে কৈলাস থেকে সপরিবারে মর্ত্যে আসেন দেবী দুর্গা। কণ্যারূপে বাবার বাড়িতে উমার এই আগমনকে ঘিরেই থাকে ভক্তদের এত উল্লাস।

বছর ঘুরে ঘরের মেয়ে উমা আবারও ফিরে এসেছে ঘরে। তাই তো ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে যে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হলো আজ, সামনের দিনগুলো হবে তার আরও বেশি রঙিন।

ভক্তদের মনেও বাঁচতে শুরু করেছে আনন্দ এবং উল্লাসের সুর। ঘটোকে চড়ে ছত্রভঙ্গের বার্তা নিয়ে যে দেবী দুর্গা এসেছেন, আগামী দিনগুলোতে তার আরাধনা করে তিনি যেন এই ধরণীতে শান্তির চাদর বিছিয়ে দেন সেই প্রার্থনায় থাকবে অবিরত।

এসএস