সমুদ্রতীরে ‘প্লাস্টিক দানব’— মানুষের অবহেলার ভয়াবহ পরিণতির বার্তা

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে নির্মিত ‘প্লাস্টিক দানব’ | ছবি: এখন টিভি
0

সমুদ্রের বুক চিরে উঠে এলো ভয়ঙ্কর দানব। হাতে উপড়ে ফেলা নারকেল গাছ, শরীরজুড়ে পাঁচ টন প্লাস্টিক বর্জ্য— এমন থিমে কক্সবাজার সৈকতে ৫০ ফুটের ‘প্লাস্টিক দানব’ যেন দূষণের এক জীবন্ত রূপ। ভয়ঙ্কর এই অবয়ব বানিয়ে মানুষের কর্ম ও অবহেলার ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। প্লাস্টিক বর্জ্যকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর আবর্জনা না বানিয়ে সংগ্রহ ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার চেষ্টায় আগামী চার মাস ধরে চলবে এই কার্যক্রম।

লোককথায় দৈত্য-দানবের গল্পের চরিত্রের মতো সমুদ্রের তীরে দাঁড়ানো এক ভয়ঙ্কর দানব। কক্সবাজার সৈকতে ৫০ ফুট উচ্চতার এ দানবের হাতে আছে উপড়ে ফেলা একটি নারিকেল গাছ, শরীরজুড়ে প্লাস্টিক বর্জ্য। দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে, ভয়ঙ্কর দানব ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সমুদ্র থেকে উঠে এসেছে।

প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে তৈরি এই ভাস্কর্যের নাম ‘প্লাস্টিক দানব’। সমুদ্রদূষণের ভয়াবহতা, পর্যটক ও স্থানীয়দের প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো এবং সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখার জন্যই নেয়া হয়েছে এমন বিচিত্র উদ্যোগ। সুগন্ধা ও সিগাল পয়েন্টের মাঝামাঝি সৈকতে ভাস্কর্যটি প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। পর্যটকরা বলছেন, প্লাস্টিক দূষণের মতো জটিল বিষয়কে তুলে ধরার এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

সমুদ্র প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু মানুষের উদাসীনতার কারণে প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্র ও সৈকতের পরিবেশকে নষ্ট করছে। এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের আচরণ পরিবর্তনে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন জেলা প্রশাসক।

আরও পড়ুন:

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, ‘এটা পর্যটকদের সচেতন করার জন্য যে, কী পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য আমরা পরিবেশে নির্গত করছি। এখানে আপনারা যেটা দেখছেন যে, ৫ থেকে সাড়ে ৫ টন প্লাস্টিক বর্জ্য শুধু কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এবং এর আশপাশ থেকে খুব অল্প কয়েকদিনের মধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে।

এদিকে আয়োজকরা জানান, প্লাস্টিক দূষণ রোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিবছরই ভিন্ন ভিন্ন নকশায় নির্মাণ করা হয় ‘প্লাস্টিক দানব’। এর মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্যকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে ফেলে না রেখে যথাযথ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড সদস্য জামাল উদ্দিন বলেন, ‘এই বর্জ্যগুলো আমাদের এই সমুদ্র উপকূল থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছে। এ বছর আপনারা দেখছেন যে, দানবের হাতে একটি উপড়ে ফেলা নারিকেল গাছ। এটা প্রতীকী অর্থে। এর মাধ্যমে আমরা বোঝাতে চেয়েছি যে, কীভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য আমাদের পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে এবং পরিবেশ ধ্বংস করে আমাদের থেকে অক্সিজেন কেড়ে নিতে পারে।’

বিশেষ থিয়েটারে পর্যটনবিষয়ক চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে, যা দেখার জন্য সঙ্গে আনতে হবে দু’টি পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল। এর উদ্দেশ্য প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করা। ২০২২ সাল থেকে প্লাস্টিক দূষণ রোধে সচেতনতা কার্যক্রম হিসেবে কক্সবাজারে চালু রয়েছে ‘প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ স্টোর’। যেখানে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক জমা দিলে পাওয়া যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।

এসএইচ