ইউক্রেন যুদ্ধ: স্টারলিংকে নতুন বিধিনিষেধের প্রভাব পড়ছে রণক্ষেত্রে

ইউক্রেনের পোকরোভস্কের কাছে স্টারলিংক টার্মিনাল স্থাপন করছেন সেনারা
ইউক্রেনের পোকরোভস্কের কাছে স্টারলিংক টার্মিনাল স্থাপন করছেন সেনারা | ছবি: রয়টার্স
0

ইউক্রেনের সামরিক সরঞ্জামের গতিসীমা ও ইন্টারনেট সংযোগের ওপর ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করায় রণক্ষেত্রে দেশটির বেশ কয়েকটি সামরিক অভিযান ব্যাহত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির এক উপদেষ্টা সতর্ক করে বলেছেন, ইন্টারনেটের গতিসীমা সংক্রান্ত এই নতুন পদক্ষেপ সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

স্পেসএক্সের তৈরি উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক ইউক্রেনীয় বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। এর সাহায্যে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী রুশ লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন পরিচালনা করে এবং নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখে। জেলেনস্কির উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেস্তনোভ টেলিগ্রামে জানান, ইউক্রেনকে আগে থেকে না জানিয়ে রাতেই স্টারলিংক টার্মিনালে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার (১০০ মাইল) গতিসীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে স্পেসএক্স।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র বিবিসিকে নিশ্চিত করেছে যে কোনো যানবাহন বা সামরিক সরঞ্জাম ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চললেই স্টারলিংকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার নতুন জেটচালিত ড্রোন ধ্বংস করতে তৈরি ইউক্রেনীয় ইন্টারসেপ্টর ড্রোনগুলোর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া সম্মুখ সমরের রসদ সরবরাহ, নজরদারি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্টারলিংকে এই বিধিনিষেধ এমন এক সময়ে এলো, যখন কিয়েভ ও খারকিভসহ একাধিক শহরে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ছয় লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। ইউক্রেনের লুৎস্ক শহরের একটি গুদামে রুশ ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হন। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া ৩৯টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২৮টি ড্রোন ছুড়েছিল, যার মধ্যে মাত্র ৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১১৫টি ড্রোন প্রতিহত করতে পেরেছে কিয়েভের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার দাবি করলেও তা উপেক্ষা করেই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মস্কো। কিয়েভে পর পর দুই রাত আগাম সতর্কসংকেত বাজানোর আগেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ইউক্রেন জানিয়েছে, রাশিয়া হামলা বন্ধ রাখলে তারা তা মেনে চলতে প্রস্তুত। তবে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, এমন কোনো যুদ্ধবিরতির সুযোগ ইউক্রেন পেতে পারে না, যা তাদের নতুন করে পুনর্বাসিত হওয়ার সময় দেবে।

এএম