ভারতে ককরোচ জনতা পার্টি ও বিরোধী জোটের বিক্ষোভের জেরে এখনও থমথমে রাজধানী নয়াদিল্লি। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে রাজধানীর অন্তত ৩৭টি প্রবেশপথ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি পয়েন্টে তল্লাশি চৌকি বসিয়ে চলছে কঠোর নজরদারি। এছাড়া, যন্তর মন্তরসহ জয় সিং মার্গ ও টলস্টয় মার্গের সড়কগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সদস্য।
দিল্লিতে মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের আটক না করার নির্দেশ দেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। তবে এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করেই ধরপাকড় অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। এ সময় খবর সংগ্রহ করতে এসে আটক হয়েছেন বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও। এদিকে, নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে সোমবার ৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ রেখেছে দিল্লির মেট্রোরেল কর্পোরেশন।
দিল্লির যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতির জন্য পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কাসহ সিজেপির নেতারা। পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে এক বিবৃতিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভে নামার হুঁশিয়ারি জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। সৌরভ দাস বলেন, সমাবেশের দিনক্ষণ জানানোর স্বাধীনতা পুলিশের হাতেই রয়েছে।
সিজেপি নেতা সৌরভ দাস বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। দেশব্যাপী সবাই বিক্ষোভ করছে। ১০ দিন আগে সমাবেশের জন্য অনুমতি নিতে হবে, পুলিশ সবসময় এসব আইনি পথে আসার কথা বলে। এখন পুলিশের ওপরই সব ছেড়ে দিয়েছি আমরা। সমাবেশের অনুমতি দেয়ার বিষয়টি তাদের স্বাধীনতা।’
রোববার মধ্যরাতে মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলিতে নিজ গ্রামে গিয়ে দাদীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন অভিজিৎ দীপকে। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরে সামাজিক মাধ্যমের এক বার্তায় সিইসি জ্ঞানেশ কুমার মোদির কাছে কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন দীপকে। তার অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষায় সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে মোদি সরকার।
এদিকে, বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে প্রধান বিচারপতি জানান, সুপ্রিম কোর্টের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত। তিনি বলেন, এসআইআর সংক্রান্ত একটি মামলা বিচারাধীন থাকায় আইন ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই বৈঠক বাতিল করা হয়েছে।
তবে নিজের সিদ্ধান্তে অটল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সোমবার স্থানীয় সময় বিকেলে দিকে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রা করবে ইন্ডিয়া জোট। এ সময় ভোট চুরির অভিযোগে শীর্ষ আদালতে একটি পিটিশন দাখিলের কথা রয়েছে রাহুল গান্ধীর। এদিন দুপুরে, এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দল ও জনগণ একদিকে, মোদি ও জ্ঞানেশ কুমার অন্যদিকে। বিজেপি দিল্লিকে কারাগারে পরিণত করেছে বলেও অভিযোগ করেন রাহুল গান্ধী।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমার কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য আছে যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আজকাল ঘুমাতে পারছেন না। তার ঘুম হারাম হয়ে গেছে। তিনি পালাতেও পারবেন না। আমরা তাকে এতো সহজে ছেড়ে দেব না। লাখো জনতা জেগেছে।’
দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় ন্যায়ের জন্য পদযাত্রায় সাধারণ মানুষকে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী। কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের চলো দিল্লি সমাবেশে যোগ দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস এবং আখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি।





