অলিম্পিক বা এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে ফেডারেশনগুলোর শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা নতুন নয়। ব্যতিক্রম হয়নি সদ্য সমাপ্ত এশিয়ান গেমসেও। জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত এই আসরের সমাপনী মার্চ পাস্টে অংশ নেয়নি হকি ফেডারেশনের কেউ। যে কারণে বিশ্বমঞ্চে সমালোচনার মুখে পড়ে বাংলাদেশ।
সংকটের শুরু উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে। সেই কুচকাওয়াজে বাংলাদেশ থেকে ৬১ জনকে অংশ নেয়ার অনুমতি দেয় আয়োজক কমিটি। হকি দলের ক্যাম্প দূরে থাকায় ও আয়োজক কমিটির কাছ থেকে গাড়ি না পাওয়ায় তাদেরকে ছাড়াই মার্চ পাস্টের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন।
পরবর্তীতে সমাপনী অনুষ্ঠানে হকি দল থেকে ৮ জনকে মার্চ পাস্টের জন্য বাছাই করা হয়। কিন্তু সেই আমন্ত্রণে দাড়া দেয়নি হকি দল। এমন আচরণ ভালোভাবেই নেয়নি বিওএ। বিষয়টিকে শৃঙ্খলা পরিপন্থী হিসেবেই দেখছেন গেমসের শেফ দ্য মিশন ও বিওএ-র সহ সভাপতি ইমরোজ আহমেদ।
বিওএ-র সহ সভাপতি ইমরোজ আহমেদ বলেন, ‘হকি তাদের নিজস্ব কোনো যুক্তি, নিজস্ব কোনো কারণে যে ডিড নট কাম, সেক্রেটারি আছেন, তাদেরকে আমি জানিয়েছি। তারা আসেন নাই। আমরা তো সবাই জাতীয় পতাকাকে রিপ্রেজেন্ট করতে গিয়েছি ওখানে। সেই জায়গায় একটা সিদ্ধান্ত যদি আমরা পালন করতে না পারি। তাহলে তো এটা শৃঙ্খলার পরিপন্থী কাজই হবে।’
অবশ্য সমাপনী মার্চপাস্টে অংশ না নেয়ায় নিজেদের কোনো ভুল দেখছে না বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। বরং পুরো ঘটনার জন্য বিওএ’র দিকেই অভিযোগের তীর ছুঁড়েছেন ফেডারেশনের সহ সভাপতি আরিফুল হক প্রিন্স।
তিনি বলেন, ‘অলিম্পিকের সঙ্গে আমাদের একটা দূরত্ব রয়েছে শুরু থেকেই, কারণ যারা বর্তমান দায়িত্বে রয়েছেন, তারা চাইনি যেন আমরা অলিম্পিক এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ করতে না পারি। পরবর্তীতে যাওয়ার পরও তারা আমাদের সঙ্গে ওইভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেনি এবং শেষ মুহূর্তে যখন আমাদেরকে বলেছে, তখন আমাদের অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ ছিলো না। কারণ আমরা প্রায় ছয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং টাফ ম্যাচ খেলেছি, ছেলেরা শারীরিকভাবে সবাই টায়ার্ড ছিলো।’
শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে হকি ফেডারেশনকে চিঠি দিতে পারে বিওএ। চিঠি পেলে সংস্থাটিকে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন ফেডারেশনের সহ সভাপতি।





