মানসিক রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ১৯৫৭ সালে পাবনার হেমায়েতপুরে স্থাপিত হয় ৫০০ শয্যার পাবনা মানসিক হাসপাতাল। তবে দীর্ঘ সাত দশকেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি মানসিক হাসপাতালটিতে। বর্তমানে ৩১ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১৯ জন।
কয়েক ধাপে শয্যা সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি হাসপাতালের চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা। পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও ওষুধ সংকটসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভাবে প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। এছাড়া ব্লাড ও ইউরিন পরীক্ষা ছাড়া অন্য কোনো টেস্টই হয় না হাসপাতালটিতে।
রোগীর স্বজনদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এরা সিম্পটম বুঝে ওষুধগুলো লেখে। কিন্তু যদি এখানে আপনার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য কোনো মেশিনপাতির ব্যবস্থা থাকতো, তাহলে সবথেকে ভালো হইতো।’
হাসপাতালের কর্মচারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমাদের মোট পদের সংখ্যা ছিল চারটি। তার মধ্যে শুধুমাত্র আমি একা আছি, আর কেউ এখানে নাই আরকি।’
আরও পড়ুন:
ওষুধ বিতরণকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘ওষুধ আমাদের এখানে সাপ্লাই না, সেটা তার আমাদের পরিচালক বা অন্যান্যেরা জানে। তারা জানে কি জন্য আমাদের এখানে ওষুধ সাপ্লাই নাই। আগে দেখছি প্রচুর ওষুধ সাপ্লাই থাকছে আমাদের এখানে।’
নার্সদের মধ্যে একজন বলেন, ‘সরকার নার্স নিয়োগের ব্যবস্থাটা আরও বেশি জোরদার করে বা বেশি সংখ্যক নার্স দেয়, সেই ক্ষেত্রে এখানে পোস্টিং নার্স আরও বেশি আসবে।"
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই চিকিৎসকসহ অন্যান্য সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
পাবনা মানসিক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. এ. কে. এম শফিউল আযম বলেন, ‘আমাদের ভর্তি থাকে ৫০০ জন রোগী। তো এই শয্যা বিপরীতে আসলে যে চিকিৎসক আরও বেশি পদায়িত থাকার কথা, সেখানে কিছু কম সংখ্যক চিকিৎসক রয়েছেন। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেই আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সাধ্যমতো সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের আরও আলাপ-আলোচনা হয়েছে। তারা আশ্বাস করেছেন যে খুব শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান করবেন।’
৫০০ শয্যাবিশিষ্ট পাবনা মানসিক হাসপাতালকে আন্তর্জাতিক মানের করার লক্ষ্যে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে হাসপাতালটিতে চিকিৎসক এবং অন্যান্য জনবল সংকট কাটিয়ে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করা হবে এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।





