জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি এক বিবৃতিতে জানান, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা দুটি এবং ইয়েমেন সীমান্তের নিকটবর্তী খামিস মুশাইত শহরের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করেছে। এদিকে সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, রিয়াদে ভূপাতিত একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল ও একটি চিকিৎসা কমপ্লেক্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
অন্যদিকে ইয়েমেনের হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটি বৃহস্পতিবার বিকেলে রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তার দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, যার ফলে বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বার্তা সংস্থা এপিকে জানিয়েছেন, তারা রিয়াদজুড়ে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনেছেন, যার একটি ছিল বিমানবন্দর এলাকায়।
সম্প্রতি মক্কা ও মেদিনার পবিত্র আকাশসীমা ছাড়া সৌদি আরবের ওপর দিয়ে চলাচলকারী সব ধরনের বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে হুথিরা। একই সঙ্গে তারা আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আকাশসীমা এড়িয়ে চলার সতর্কতা জারি করেছে। এর আগে চলতি সপ্তাহে মঙ্গলবার ও বুধবার রিয়াদ বিমানবন্দর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আবহা বিমানবন্দরে পৃথক দুটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুথিরা। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, সেসব হামলায় অন্তত ৩ জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হন। এর বাইরে গত ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বরও রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।
এদিকে ইয়েমেনের অভ্যন্তরেও সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। হুথি নিয়ন্ত্রিত লোহিত সাগর তীরবর্তী বন্দরনগরী হোদেইদাহ বিমানবন্দরের কাছে নতুন করে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে দেশটির তাইজ প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের গ্রামীণ এলাকায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ চলছে। সরকারি বাহিনীর অগ্রযাত্রার মুখে এডেন ও লাহিজের সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান রসদ সরবরাহের পথগুলো প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় হুথিরা এখন নতুন গ্রামীণ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে। কৌশলগত বাব-এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ রক্ষায় উভয় পক্ষই শক্তি বৃদ্ধি করছে।
জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনে লড়াই নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটিতে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হওয়া মানুষের সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে গেছে।





