বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে ৯ অক্টোবর। এরইমধ্যে মনোনীত করা হয়েছে ২০৮ ব্যক্তি ও ৭৯টি সংস্থাসহ মোট ২৮৭ প্রার্থীর নাম। তবে কারা আছেন এই তালিকায় তা জানার কোনো উপায় নেই। কারণ তালিকাটি অসলোর নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউটের বেসমেন্টের একটি ভল্টে গোপনে রাখা হয়। বিশ্বের হাজার মানুষের পাশাপাশি কমিটির সদস্যরাও পছন্দের নাম প্রস্তাব করেন। ৩১ জানুয়ারি মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ তারিখ।
তবুও প্রতি বছর আলোচিত কিছু ব্যক্তি ও সংস্থার নাম নিয়ে চলে গুঞ্জন। তেমনি এবছরও পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে পোপ লিও, ফিলিস্তিনি বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও সেভ দ্য চিলড্রেন।
শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার দৌড়ে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। কম্বোডিয়া, ইসরাইল ও পাকিস্তান এবার ট্রাম্পকে মনোনীত করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় দফায় হোয়াইট হাউজের ক্ষমতায় বসার পর থেকেই নোবেল শান্তি পুরস্কার দাবি করে আসছেন ট্রাম্প।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছি। হাজার হাজার জিম্মিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এমন সব কাজ করেছি যা আর কেউ কখনো করেনি। আমি বড়াই করছি না। আমি শুধু সত্যিটা বলছি। আর কোনো প্রেসিডেন্টই তা করতে পারেননি। যে যুদ্ধগুলো নিষ্পত্তি করেছি সেগুলো ছিলো বড় বড় যুদ্ধ।’
আরও পড়ুন:
গেলো বছর শান্তিতে নোবেল পান ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ১২৫ বছরের ইতিহাসে এটি এক অনন্য ঘটনা। এ বিষয়ে ট্রাম্প জোরালো তদবির করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এর কয়েক সপ্তাহ পরই মাচাদো তার স্বর্ণপদকটি ট্রাম্পকে উপহার হিসেবে দিয়ে দেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প মনোনীত হলেও এবার পুরস্কার জেতার সম্ভাবনা খুবই কম। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে দাঁড়াবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানো। পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের মতে, এবার এমন একজনকে বেছে নেয়া হবে যিনি ট্রাম্পের চাপ সামলাতে পারবেন।
পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকান জারলো বলেন, ‘কমিটির জন্য একটি বিশেষ উদ্বেগের কারণ হতে পারে, যাকে বা যাদের এই পুরস্কার দেয়া হবে তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো। কারণ এরই মধ্যে জাতিসংঘের অনেক কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তাই এই সংস্থাগুলো এবার পুরস্কার পেলে আরও বেশি চাপে থাকবে।’
গেলো বছর নোবেল না পাওয়ার পেছনে কমিটি ও নরওয়েকে দায়ী করেছিলেন ট্রাম্প। এবার নোবেল কমিটির ওপর এক ধরণের প্রভাব বিস্তারে ট্রাম্প চেষ্টা করতে পারেন বলেন শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক করিম হাগাগ বলেন, ‘বেটিং সংস্থাগুলোর কাছে হয়তো পছন্দের প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে তিনি আসলেই পছন্দের প্রার্থী নন। ট্রাম্প এবার শান্তিতে নোবেল পেলে তা বিতর্কিত দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত জটিল বিরোধ নিষ্পত্তিতে মধ্যস্থতা করে সাফল্যের দাবি করেন। সেগুলো অতিরঞ্জিতও হতে পারে।’
শান্তিতে নোবেল বিজয়ীরা পুরস্কার হিসেবে পাবেন স্বর্ণপদক ও সনদের পাশাপাশি ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা।




