হৃদরোগে আক্রান্ত মাদুরোর স্ত্রী; মার্কিন কারাগার থেকে গৃহবন্দী রাখার আবেদন

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস | ছবি: সংগৃহীত
0

গুরুতর হৃদরোগের কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগার থেকে মুক্তি ও নিউ ইয়র্কে গৃহবন্দী থাকার আবেদন জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস। বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের একটি আদালতে তার আইনজীবীরা এ বিষয়ে বিচারকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানাবেন।

চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে কারাকাসে নিজেদের বাসভবনে মার্কিন বাহিনীর মধ্যরাতের এক অভিযানের পর থেকে নিউ ইয়র্কের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দী রয়েছেন নিকোলাস মাদুরো ও সিলিয়া ফ্লোরেস। যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ছয় বছর আগের একটি ফৌজদারি মামলায় তাদের বিচার চলছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। তবে উভয়েই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন এবং একটি স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও ফার্স্ট লেডি হিসেবে তাদের আইনি দায়মুক্তি রয়েছে উল্লেখ করে মামলাটি খারিজের দাবি জানিয়েছেন।

৬৯ বছর বয়সী সিলিয়া ফ্লোরেসের আইনজীবীরা আদালতে জানান, কারাগারে তার প্রয়োজনীয় ও কার্যকর চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। ব্রুকলিনের কারাগারে বন্দিজীবনে তার ওজন ২৫ পাউন্ড কমে গেছে এবং চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন যে তার হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। গত জুলাইয়ে তিনি মৃদু হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া মার্কিন বাহিনীর অভিযানের সময় ঘরের দেয়ালে ধাক্কা লেগে তার শরীরে স্থায়ী ক্ষত তৈরি হয়েছিল। আইনজীবীরা তাকে নিউ ইয়র্কের একটি বাসায় সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নজরদারিতে গৃহবন্দী রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।

আইনজীবীরা আরও জানান, সিলিয়া ফ্লোরেসের পালিয়ে যাওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই; কারণ তিনি সার্বক্ষণিকভাবে তার স্বামীর পাশে থেকে তাকে সহায়তা করতে চান।

তবে সরকারি কৌঁসুলিরা এই জামিন আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। আদালতে তারা যুক্তি দেন, সিলিয়া ফ্লোরেস মুক্তি পেলে পালিয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হবে। তবে কারাগারে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার স্বার্থে তাকে ইতিমধ্যে স্থানীয় হাসপাতালেও নেয়া হয়েছে বলে জানান তারা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মাদুরোকে আটকের এই পদক্ষেপকে একটি সুনির্দিষ্ট আইন প্রয়োগকারী অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে মাদুরো নিজেকে যুদ্ধবন্দী এবং এই মার্কিন অভিযানকে অপহরণ বলে অভিহিত করেছেন। ২০১৩ সাল থেকে আটক হওয়ার আগপর্যন্ত ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ছিলেন মাদুরো।

এএম