স্থানীয়দের ধারণা, সন্ধ্যাবাতি জ্বালানোর পর যে কোনোভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে গ্যাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সন্ধ্যা বাতির আগুন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয়রা জানান, প্রথমে একটি বাড়িতে আগুন দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা আশপাশের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, পরিবারের সদস্যরা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেয়ারও তেমন সুযোগ পাননি। এতে ঘরের আসবাবপত্র, পোশাক, বিছানাপত্রসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়।
এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে সঞ্জয় সরকারসহ চারটি পরিবারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুনে ঘরবাড়ির পাশাপাশি তাদের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পুড়ে গেছে বলে জানান তারা।
আরও পড়ুন:
ক্ষতিগ্রস্ত সঞ্জয় সরকার বলেন, ‘আমার সব শেষ। আমি নিঃস্ব হয়ে গিয়েছি। আমার আর কিছু নেই। এখন আমি কী করবো? কোথায় যাব?’
অপর ক্ষতিগ্রস্ত গৃহবধু রিতা রানী বলেন, ‘আমার ঘরে আর কিছু নেই, সব শেষ হয়ে গেছে। পথে বসার উপক্রম। আমাদের প্রায় ১০ লাখ টাকা ঋণ আছে। সরকারের কাছে সহযোগীতা কামনা করছি।’
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। প্রায় ১ ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় আগুন আশপাশের আরও বাড়িতে ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায়।
নওগাঁ ফায়ার স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম চলছে। তদন্ত শেষে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।’
এদিকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছে।





