দিনের অর্ধেক সময় অলস শাহ আমানত; এভিয়েশন হাব হলে বাড়বে বৈদেশিক আয়

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর | ছবি: এখন টিভি
0

চট্টগ্রামের আকাশপথে প্রতিদিন উড়ে যায় নানা দেশের শত শত বিমান। অথচ নিচের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি দিনের অর্ধেক সময় অলস পড়ে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূরপাল্লার বিমানের যাত্রাবিরতি বা টেকনিক্যাল ল্যান্ডিং হাব করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যার সম্ভাব্য ব্যয় ৩০০ মিলিয়ন ডলার।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে প্রতিদিন গড়ে ওঠানামা করে ৫০টি ফ্লাইট। যাত্রী আসা যাওয়া করে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন। ২০২৫ সালে মোট ১৯ হাজার ১৬৩ টি বিমানে আসা যাওয়া করেছে ১৬ লাখ যাত্রী। যেখানে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ২৫৫ কোটি টাকা।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমানে ৫০ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহৃত হচ্ছে। অথচ, এ বিমানবন্দরকে অনায়াসেই বৈশ্বিক বিমানের ট্যাকনিক্যাল ল্যান্ডিং হাব করা সম্ভব। চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমান রুট চলে গিয়েছে। তাই ফুয়েল, ক্যাটারিং, বিমানের ট্যাক্সিওয়ে ও হোটেলসহ বিভিন্ন সুবিধা বাড়ালে দীর্ঘপাল্লার বিমানের যাত্রীবিরতির কেন্দ্রবিন্দু হবে চট্টগ্রাম।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন নুর হোসেন বলেন, ‘হোটেল ফ্যাসিলিটি, রিফুয়েলিং ফ্যাসিলিটি, মেইনটেনেন্স ফ্যাসিলিটি—সবকিছু একসঙ্গে করার পরেই একটা এয়ারলাইনস যখন এখানে ল্যান্ড করার পর সবগুলো রিকোয়ারমেন্ট ফুলফিল করে যেতে পারবে তখনই সে আপনাকে হাব হিসেবে মেনে নেবে। তখন আপনার যত ট্রানজিট যা আছে, সব আপনি এখানে পাবেন।’

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ১৮ মাসের দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনার সম্ভাব্য ব্যয় ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার। প্রকল্পে বছরে ১ কোটি যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা তৈরি, বোর্ডিং ব্রিজ, ইমিগ্রেশন কাউন্টার বাড়ানোসহ নানা বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্যাকনিক্যাল হাবের সব ধরণের সম্ভাবনা আছে চট্টগ্রামে। এক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক সেবা ফি, ফুয়েল ফি নির্ধারণ ও সেবা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে।

চট্টগ্রাম এভিয়েশন ক্লাবের সভাপতি মো. আসিফ চৌধুরী বলেন, ‘যদি গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং চার্জও যদি আমরা কম্পিটিটিভ রাখতে পারি, আমাদের আশেপাশের দেশের সঙ্গে এবং ইন্টারন্যাশনাল যে স্ট্যান্ডার্ড আছে, সেগুলো যদি আমরা মেইনটেইন করতে পারি তাহলে আমরা এটাকে কার্যকর হাব হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।’

রপ্তানিকারকরা জানান, চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কার্গো পরিবহন সক্ষমতা বছরে ৪০ হাজার টন। এ খাতে বছরে মাত্র ২ থেকে ৩ কোটি টাকা রাজস্ব পায় সরকার।

চট্টগ্রাম ভেজিটেবল অ্যান্ড ফ্রুটস এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব রানা বলেন, ‘বিমানগুলো আমাদের বাংলাদেশের ওপর দিয়ে উড়ে যায়, তখন তারা এখানে ল্যান্ড করবে, তেল নিবে, খাদ্য নিবে—এগুলো নিতে গেলে আমাদের দেশে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’

তবে সার্বিক বিবেচনায় এ মূহুর্তে বড় প্রকল্প নেয়ার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই ও সরকারকে সতর্ক থাকারও পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের।

জেআর