নিহতরা হলেন— কামরাঙ্গীরচরে স্বপ্না বেগম (৩৮), ডেমরায় পপি (৩৫) এবং বংশালে হাশেম (৪৮)। পুলিশ ও পরিবারের প্রাথমিক ধারণা, তারা প্রত্যেকেই আত্মহত্যা করেছেন।
কামরাঙ্গীরচরে গৃহিণীর আত্মহত্যা
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কামরাঙ্গীরচরের পশ্চিম রসুলপুর ঝাউলাহাটি চৌরাস্তা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে স্বপ্না বেগমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের স্বামী অটোচালক খাজা জানান, বিয়ের পর থেকেই স্বপ্না শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। ঘটনার দিন সন্তানরা বাইরে থাকার সুযোগে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। বাড়ির ম্যানেজার ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
কামরাঙ্গীরচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ডেমরায় বাথরুম থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে ডেমরার হাজী বাদশা মিয়া রোডের ‘আমার ভুবন’ ভবনের ১১ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে পপি নামের চার সন্তানের জননী এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে গোসলের কথা বলে বাথরুমে ঢুকে দীর্ঘক্ষণ সাড়া না দেয়ায় স্বজনরা দরজা কেটে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে বাথরুমের হ্যাঙ্গারের সঙ্গে গামছা দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় তার দেহ ঝুলতে দেখা যায়। নিহত পপি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার নন্দলালপুর গ্রামের মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে।
ডেমরা থানার এসআই মাহবুর রহমান জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও তদন্তের পর বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বংশালে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশাল থানাধীন নাজিম উদ্দিন রোড এলাকায় হাশেম (৪৮) নামের এক মানসিক অসুস্থ ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে নাজিম উদ্দিন রোডের একটি ৬ তলা ভবনের চারতলা থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের ছেলে হাসিব জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। রাতে ফুফুর বাসায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পেয়ে স্বজনরা উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।





