এআই নিরাপত্তা মানদণ্ডে ঐকমত্য; প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে ট্রাম্পের চুক্তি

ট্রাম্পের সঙ্গে প্রযুক্তিবিদরা
ট্রাম্পের সঙ্গে প্রযুক্তিবিদরা | ছবি: সংগৃহীত
0

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের নিরাপত্তায় মানদণ্ড তৈরিতে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তিবিদরা। হোয়াইট হাউজে এআই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে নিরাপত্তা বিষয়ে একটি চুক্তি সই করেছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত ডেটা সেন্টারের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে মত দিয়ে ট্রাম্প বলেন, নিজেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে এআই শিল্প। বিশ্লেষকদের মতে, এআই নিয়ে মানবজাতির ভাগ্য ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।

বিপর্যয়কর এমনকি অস্তিত্ব সংকটের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কবার্তার পরও এআই শিল্পে চীনের চেয়ে এগিয়ে থাকাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই এআই-এর গতি বা কার্যক্ষমতা কমানোর বিরোধিতা করে আসছেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরই হোয়াইট হাউজে বিশ্বের প্রযুক্তি জগতের মহারথীদের নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানান ট্রাম্প।

বৈঠকে অংশ নেন ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, মেটা, গুগল, স্পেসএক্স ও এনভিডিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তারা। আলোচনাকে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে এআই-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয় নিশ্চিত করেন ট্রাম্প। বৈঠক শেষে এআই শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব থাকবে বলেও নিজের আত্মবিশ্বাস তুলে ধরেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘এআই নিজেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। এই মডেলগুলো খুব জটিল। তবে আমার বিশ্বাস এগুলো ভালো কাজেই ব্যবহার হবে। আর যখন তা হবে না, তখন তাদের শনাক্ত করতেও সক্ষম হবো। এআই নিরাপত্তা নজরদারিতে একটি কমিটি গঠনের পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে। যেখানে দশজনের মতো সদস্য থাকতে পারে।’

জয়েন্ট কমিটমেন্ট অন ফ্রন্টিয়ার রেসপনসিবিলিটিজের চুক্তি অনুযায়ী, এআই সিস্টেমগুলোর শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নজরদারি এবং হ্যাক বা প্রবেশ রোধ নিশ্চিত করা হবে। এমনকি সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিতে থার্ড পার্টি দিয়ে নিরীক্ষার বিষয়েও একমত হয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন

অ্যানথ্রোপিকের সিইও দারিও আমোদি বলেন, ‘এআই-এর অবিশ্বাস্য সুবিধা রয়েছে। চিকিৎসা খাত ও প্রযুক্তি খাতে এর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও যেটা বলেছেন, এআই যার নিয়ন্ত্রণে সেই জয়ী হবে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ প্রযুক্তির বেশকিছু বাস্তব ঝুঁকিও রয়েছে। তা মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।'

মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ বলেন, ‘সংক্ষেপে বলতে গেলে, আমরা সবাই একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছি। যা হলো এ প্রযুক্তিকে নিরাপদে বিকশিত করার বিষয়ে হোয়াইট হাউজের চুক্তি। মূল ধারণাটি হলো, আমরা মার্কিন জনগণ এবং গ্রাহকদের আশ্বাস দিচ্ছি যে, আমরা যেভাবে চাই প্রযুক্তিটি ঠিক সেভাবেই কাজ করবে।’

এআই শিল্পকে আরও তরানিত্ব করতে দেশব্যাপী ডেটা সেন্টার নির্মাণের ওপর জোর দেন ট্রাম্প। যেসব অঞ্চলে ডেটা সেন্টার তৈরি করা হবে সেখানে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়া, শিক্ষা ও অবকাঠামোসহ স্থানীয় চাহিদা পূরণে এই প্রকল্প পরিচালনা করা হবে।

এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও পরিচালনায় ডেটা সেন্টারে ব্যাপক বিদ্যুতের চাহিদা ও স্থানীয় পর্যায়ের পরিবেশগত নানা প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দারা।

সম্প্রতি রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা যায়, সমাজে গুরুতর ক্ষতি ঠেকাতে এআই কোম্পানিগুলো যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে না বলে মত দিয়েছে ৭৩ শতাংশ মানুষ। আর ৫৫ শতাংশের মতে এআইয়ের লাগাম টানা জরুরি। তবে ২০২৫ সালে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটিতে সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত অনুদানদাতাদের তালিকার শীর্ষে ছিলেন এআই কোম্পানির নির্বাহী ও বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তি খাতের জ্বালানি সরবরাহের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ২০০ গিগাওয়াট সৌরশক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ইলন মাস্কের টেসলা ও স্পেসএক্স কোম্পানি।

বিশ্লেষকদের মতে, এআই নিয়ে ট্রাম্পের উচ্ছ্বাস ভবিষ্যতে সত্য প্রমাণিত হলে ইতিহাসে দূরদর্শী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবেন তিনি। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে মানবজাতির ভাগ্য ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।

জেআর