ইউরোপের অন্যতম বড় অভিবাসন সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে স্পেনের সেউতা অঞ্চল। গেল জুলাই মাসে হুট করেই মরক্কো থেকে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ঢুকে পড়ে এই অঞ্চলটিতে। এতে শেনজেনভুক্ত ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে অভিবাসী নিয়ে দেখা দেয় চরম উদ্বেগ। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার বলছে, চলতি বছরে ইউরোপে সমুদ্রপথে অভিবাসীপ্রত্যাশীডের সংখ্যা ৩৯ শতাংশ কমলেও, ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর ঝুঁকি ও প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে।
এমন অবস্থায় অবৈধ অভিবাসীদের ঢল ঠেকাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জোটভুক্ত দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের দল। অতীতের চেয়ে আরও নিবিড়ভাবে ইইউ-এর সীমান্ত কঠোর করা এবং কার্যকর ও দ্রুত উপায়ে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানান জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ট। এছাড়া, অভিবাসী আসা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি জানিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আয়ারল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিম ও’ক্যালাহান বলেন, ‘যেসব দেশ থেকে নাগরিকরা আসছে সেসব দেশগুলোতে পুনঃপ্রবেশ ও প্রত্যাবর্তনের জন্য আমরা কীভাবে তাদের সহযোগিতা করতে পারি তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভিসানীতি নিয়ে এর আগে আলোচনা হয়েছে। এখন আরও বেশি সহযোগিতা নিশ্চিতে বৃহত্তর বাণিজ্য নীতি এবং অর্থনৈতিক নীতির দিকেও নজর দেয়া প্রয়োজন।’
জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ট বলেন, ‘মানবিক সংকট নয় বরং অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের অভিবাসীদের ঢলের মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপ। সম্প্রতি স্পেনের সেউতাসহ বেশকিছু দেশে এমন ঘটনা বারবার দেখেছি। যেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য ছড়িয়ে অপরাধী চক্র মানুষের জীবনকে সংকটে ফেলছে। ব্যাপক মাত্রায় অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার ঘটনা ঘটছে।
স্পেন সরকার বলছে, এখনো নারী ও শিশুসহ মরক্কোর ১২ হাজার অভিবাসীপ্রত্যাশী সেউতা অঞ্চলে রয়ে গেছে। এরমধ্যে মরক্কোর জাতীয় নির্বাচন ঘিরে নতুন করে বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর সীমান্ত পাড়ি দেয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় সীমান্তে পুলিশ ও সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে স্পেন সরকার।
সেউতা অভিবাসী সংকট মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে স্পেনে বিক্ষোভ করেছে শত শত মানুষ। সরকারবিরোধী বিক্ষোভে দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে গালিগালাজ করে স্লোগান দেয় বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভকারীদের একজন বলেন, ‘সেউতার পরিস্থিতি নিয়ে সরকার একেবারেই নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। স্পেনকে রক্ষা করার পরিবর্তে মরক্কোর কাছে নতি স্বীকার করেছে সরকার।’
সেউতা অঞ্চলের অভিবাসন সংকটের কারণগুলোর সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন পোপ চতুর্দশ লিও। তিনি বলেন, কেন নিজ দেশ ছেড়ে তারা পালিয়ে যাচ্ছে তা খুঁজে বের করতে হবে। এ সময় ফ্রান্স সফরে প্যারিসের একটি অভিবাসী ও শরণার্থীদের আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অভিবাসন-বিরোধী বিক্ষোভ করেছে কট্টর ডানপন্থী সমর্থকরা। ইউনিয়ন পতাকা ও বিভিন্ন অভিবাসন-বিরোধী প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভে অংশ নেয় ৫শ'র বেশি মানুষ। অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো এবং ছোট নৌকায় করে তাদের পারাপারের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেয় বিক্ষোভকারীরা।





