প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য-কক্সবাজারে প্রতিবছর লাখো পর্যটক ছুটে আসেন। ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবসকে ঘিরে কক্সবাজারে চলছে নানা আয়োজন। তিন দিনের পর্যটন মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে মুখর নগরী। উৎসবের এই আবহের মধ্যেই সামনে আসছে কক্সবাজারের পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনার সঙ্গে নানা সংকট ও সীমাবদ্ধতার কথা।
পর্যটকরা বলছেন, কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অসাধারণ। কিন্তু শহর ও সৈকত যদি আরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা যায় এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে পর্যটকদের কাছে সৈকত নগরীর আকর্ষণ আরও বাড়বে।
পর্যটকরা জানান, পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। এই সমুদ্র সৈকত তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে দেখতে চায়।
দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হলেও আন্তর্জাতিক পর্যটনের ক্ষেত্রে এখনও কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি এই অঞ্চল। দেশীয় পর্যটকের উপস্থিতি থাকলেও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকর্ষণে নানা ঘাটতির কথা বলছেন নাগরিক সমাজের এই প্রতিনিধি।
কক্সবাজারের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা পর্যটনটাকে শুধুমাত্র ইট-পাথরের কাঠামোতে নিয়ে গেছি। একজন বিদেশি পর্যটক আসলো, সে সৈকতে গোসল করা ছাড়া তার আর কি বিনোদনের এখানে ব্যবস্থা আছে? আর কোনো তো বিনোদনের ব্যবস্থা নেই, সেখানে কেন আসবে? এখানে যদি বিদেশীদের জন্য একটা প্রমোটেড ব্যবস্থা থাকতো, একটা নির্দিষ্ট তাদের জন্য একটি এরিয়া সিকিউরড এরিয়া থাকতো, তাহলে পরে অবশ্যই আসতো। কিন্তু আমরা তো সেটা ব্যবস্থা করতে পারি নাই।’
পর্যটনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরাও বলছেন, আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে সেবার মান আরও বাড়াতে হবে। এব্যাপারে শুধু বেসরকারি উদ্যোগে নয়, প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ।
হোটেল মালিকদের একজন বলেন, ‘বিদেশিদের জন্য কি কি ব্যবস্থা রাখলে বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট হবে সেটা নিশ্চয়ই আমাদের গভর্নমেন্ট জানে। সেভাবে যদি গভর্নমেন্টের সাইড থেকে ইনিশিয়েটিভ নেয়, আশা করি ফরেনার গেস্ট আরও অনেক বেশি পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।’
কক্সবাজারকে একটি পরিকল্পিত পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘কক্সবাজারের পর্যটনসহ উন্নয়নের কেন্দ্রে হাবে কীভাবে পরিণত করা সম্ভব হয়, এই লক্ষ্যে একটা মাস্টার প্ল্যান তৈরির কাজ চলছে। সেই জায়গাগুলোকে নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন সুন্দর আকর্ষণীয় প্যাকেজ তৈরি করি এবং পর্যটকদের সেই ফিলিংসটা দিতে পারি যেন তারা সত্যিকার অর্থেই এটা বিনোদন করতে পারে, নিরাপত্তাবোধ করতে পারে।’
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কক্সবাজারের পর্যটনকে শুধু সমুদ্র সৈকতকেন্দ্রিক না রেখে পুরো জেলাকে একটি সমন্বিত পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।





