এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটিতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিইউয়ানকে নজিরবিহীন লাল গালিচা সংবর্ধনায় অভ্যর্থনা জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। গত ছয় দশকের মধ্যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ ঘাঁটিতে গিয়ে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানাননি। চীনা প্রতিনিধি দলে সিএমসির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা সাই কি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
শীর্ষ বৈঠকের আনুষ্ঠানিক আলোচনার আগেই দুই দেশ তাদের চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের ১১ মাসের চুক্তিটি আরও বাড়িয়ে আগামী বছরের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বর্ধিত করতে সম্মত হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ফেন্টানিল চোরাচালান ও সীমান্ত ইস্যুতে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলে বেইজিংও মার্কিন কয়লা, জ্বালানি তেল ও বিরল খনিজের ওপর পাল্টা শুল্ক চাপায়।
গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় হওয়া ট্রুস এবং গত মে মাসে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের পর বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংঘাত এড়ানো সম্ভব হলেও সম্প্রতি জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে ৬০টি দেশের ওপর ট্রাম্পের আরোপিত ১২.৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি করেছে।
এ সম্মেলনের মূল এজেন্ডায় রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে—এমন যেকোনো এআই দুর্ঘটনা সামলাতে দুই দেশের মধ্যে একটি আগাম ‘নোটিফিকেশন মেকানিজম’ গড়ার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে বেইজিংয়ের জন্য সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় তাইওয়ান ইস্যু।
গত ডিসেম্বরে তাইওয়ানের কাছে ১,১০০ কোটি (১১ বিলিয়ন) ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিলেও আরও ১,৪০০ কোটি ডলারের দ্বিতীয় প্রস্তাবটি দরকষাকষির কৌশল হিসেবে ঝুলিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সংঘাত নিয়ন্ত্রণে বেইজিংয়ের প্রভাব কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
হোয়াইট হাউসে আয়োজিত বর্ণাঢ্য এই রাষ্ট্রীয় সম্মেলনে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের আলোচনার পাশাপাশি নৈশভোজে অ্যাপলের টিম কুক, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং ও ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যানের মতো টেক জায়ান্টদের উপস্থিতি দুদেশের অর্থনৈতিক গুরুত্বকেই নির্দেশ করে। সফর শেষে কোনো যৌথ সংবাদ সম্মেলনের পরিবর্তে দুই দেশ নিজস্ব বার্তার ভিত্তিতে আলাদা বিবৃতি প্রকাশ করবে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতার মধ্যকার সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করে ‘গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতা’ ধরে রাখা কতটা সম্ভব, তা নির্ধারণ করবে এ শীর্ষ সম্মেলন।





