হিলি সীমান্ত এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও মাদকসেবীর ফুটেজ সংগ্রহ করতে গেলে বাধা দেয় বাড়ির লোকজন। বাধা পেরিয়ে ভিতরে গেলে দেখা যায় মাদক সেবনের দৃশ্য। এভাবেই অলিগলি, ঝুপড়ি কিংবা পরিত্যক্ত ঘরে চলে মাদক সেবন। মরণ নেশায় জড়াচ্ছে তরুণ-কিশোর-বয়স্করা; বাদ যাচ্ছে না নারীরাও।
এক মাদকসেবী জানান, মাদকের কারণে তাদের এরকম অবস্থা। ভিক্ষা করে হলেও মাদক সেবন করেন তিনি। এদিকে, ভারতের সীমান্তে মাদক বিক্রি করা হয় এবং সেখান থেকেই এসব মাদক কিনে আনা হয় বলেও জানান আরেক মাদকসেবী।
সীমান্তবর্তী উপজেলা হিলি-হাকিমপুরে আগে শহরকেন্দ্রিক চুড়িপট্টি, মহিলা কলেজ পাড়া, মাঠপাড়াসহ বেশ কয়টি স্পষ্টে মাদক কেনাবেচা ও সেবন হলেও এখন তা প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। মাদকের বিস্তার বাড়ায় সন্তানদের নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। চোরাচালান প্রতিরোধে এবং তরুণ সমাজকে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে সচেতন মহল। অন্যদিকে, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, মাদক নিয়ন্ত্রণে দরকার ব্যাপক কর্মসংস্থান বলে মনে করেন স্থানীয়ারা।
তবে মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির পাশাপাশি নিয়মিত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের আটক করা হচ্ছে বলে জানায় পুলিশের এক কর্মকর্তা।
দিনাজপুর হাকিমপুরের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, ‘আমি বিভিন্ন উপজেলায় গিয়েছি, কয়েকজন মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা এই পথ থেকে সরে আসতে চায়, ভালো হতে চায়।’
বর্তমানে সমাজে পারিবারিক শৃঙ্খলা ভেঙে যাওয়া ও যুবসমাজ বিপথগামী হওয়ার মূল কারণ এসব সহজলভ্য মাদক। বর্তমান সময়ে শহর পেরিয়ে গ্রামেও মাদকের বিস্তার প্রকট আকার ধারণ করেছে। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইনের পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থানের দাবি স্থানীয়দের।





