ফরাসি কর্মকর্তাদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের ঘাটতি রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বে দৈনিক প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেলের ব্যবহার ছিল। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করায় শুরুতে দিনে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলেও পরবর্তীতে সৌদি আরব লোহিত সাগর দিয়ে কিছু তেল রপ্তানি শুরু করে। তবে ইয়েমেনের হুথিরা বাব-এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয়ায় সেখানেও সরবরাহ আবার কমেছে। দ্য ডনের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্ববাজারে তেলের সামগ্রিক ঘাটতির চেয়ে ডিজেলের সংকট আরও বেশি ঘনীভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ডিযেলের গড় দাম প্রতি গ্যালনে রেকর্ড ৬.৫২ ডলারে পৌঁছেছে। ফ্রান্সে ডিযেলের লিটারপ্রতি গড় দাম রেকর্ড ২.৪১ ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ পল ক্রুগম্যানের মতে, বর্তমান জ্বালানি সংকট আসলে অপরিশোধিত তেলের সংকটের চেয়ে পরিশোধিত পণ্যের সংকট, যার প্রধান কারণ বিশ্বজুড়ে শোধনাগারের সক্ষমতার চরম অভাব।
পশ্চিমা বিশ্ব রুশ তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং ইউক্রেনীয় হামলায় রাশিয়ার বহু শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের শোধনাগারগুলোও ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হলেও শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় ডিযেলের বাজার শিগগির স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ নেই। ডিজেলের ক্ষেত্রে ইউরোপ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে কারণ অঞ্চলটি পরিশোধিত জ্বালানির নিট আমদানিকারক।
রাইস্ট্যাড এনার্জির সহসভাপতি জানিভ শাহ জানান, বাজারে দ্রুত চালু করার মতো পর্যাপ্ত শোধনাগার নেই। পরিবহন, কৃষি ও ভারী শিল্পে বিকল্প না থাকায় স্বল্পমেয়াদে ডিজেলের ব্যবহার হঠাৎ করে কমানোও সম্ভব নয়। ফলে সরবরাহ ও চাহিদার সমতা ফেরাতে আগামী দিনগুলোতে তেলের দাম আরও বাড়াতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।





