বাসার কাছেই চিরশায়িত অপ্রতিম

চিরশায়িত অপ্রতিম
চিরশায়িত অপ্রতিম | ছবি: এখন টিভি
0

কুমিল্লায় লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর নিজ বাড়ির পাশের কবরস্থানে চিরশায়িত হলো ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। জন্ম ও বেড়ে ওঠা কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার গন্ধমতি এলাকার বাসার কাছেই আজ (রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর) তাকে দাফন করা হয়।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কোটবাড়ি উপশহরের গন্ধমতি কবরস্থানে অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে, সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে প্রথম জানাজা এবং বেলা ১১টায় বাসার পাশে গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

দুই জানাজায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। এসময় এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে। সে স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

শুক্রবার বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয়েছিল অপ্রতিম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে মরদেহের সঙ্গে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি। শনিবার রাতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় অপ্রতিমকে হত্যায় জড়িত থাকার সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, ‘অপ্রতিমের দাদার বাড়ি কুষ্টিয়ায় এবং নানার বাড়ি চাঁদপুরে। তবে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকায় তাদের নিজেদের বাড়িতেই অপ্রতিমের জন্ম এবং সেখানেই সে বেড়ে উঠেছে।’

উপাচার্য বলেন, ‘পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী অপ্রতিমকে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠার স্থান গন্ধমতির বাড়ির পাশের কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।’

জেআর